ইরানের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালাতে সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার (১৫ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন। আলোচনার সময় তিনি উপসাগরীয় নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮১ সালে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান থেকে উদ্ভূত হুমকির প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং ইউএই। এমবিজেড নামে বেশি পরিচিত আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানকে ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নেন। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য উপসাগরীয় নেতারা তাকে জানান,

ইরানের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলা চালাতে সৌদি আরব ও কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার (১৫ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ার পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন।

আলোচনার সময় তিনি উপসাগরীয় নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮১ সালে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান থেকে উদ্ভূত হুমকির প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং ইউএই।

এমবিজেড নামে বেশি পরিচিত আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানকে ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নেন। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য উপসাগরীয় নেতারা তাকে জানান, এটি তাদের যুদ্ধ নয়।

দেশগুলো এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার আগের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আমিরাত অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে কয়েকটি সীমিত হামলা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে মার্চের শুরুতে এবং পরে এপ্রিল মাসে হামলা হয়।

সৌদি আরব মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালালেও পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় আমিরাতের কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। এপ্রিলের শুরুতে আবুধাবি ইসলামাবাদকে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সৌদি আরব হস্তক্ষেপ করে পাকিস্তানকে ঋণের একটি অংশ পরিশোধে সহায়তা করে।

এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলা চালানোর পর কাতারও সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। রাস লাফান বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা। তবে শেষ পর্যন্ত দোহা সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে মনোযোগী হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েত এই সংঘাতে জড়ায়নি। আর ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ওমানকে পাল্টা হামলায় অংশগ্রহণের জন্য বাস্তবসম্মত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow