ইরান কোন কৌশলে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বাস্তবে ইরান এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নৌবাহিনীও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতাও বড় আঘাত পেয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সম্প্রতি কাতার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এছাড়া সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইনও সতর্কতা জারি করেছে। এমনকি আবুধাবিতে একটি গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। কেন এখনও হামলা চালাতে পারছে ইরান? বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে ইরান এখনও হামলা চালাতে সক্ষম— ১. পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি মজুদ ইরানের কাছে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র আগে থেকেই ছিল। কিছু ধ্বংস হলেও পুরো ভাণ্ডার শেষ হয়নি। ২. মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার ইরান এখন স্থায়ী ঘাঁটির বদলে চলমান (মোবাইল) লঞ্চার ব্যবহার করছে, যা খুঁজে বের করা কঠিন। ৩. ছোট আকারে কিন্তু ধারাবাহিক হামলা যুদ্ধের শুরুতে একসঙ্গে অ

ইরান কোন কৌশলে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, বাস্তবে ইরান এখনও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নৌবাহিনীও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতাও বড় আঘাত পেয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সম্প্রতি কাতার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এছাড়া সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইনও সতর্কতা জারি করেছে। এমনকি আবুধাবিতে একটি গাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজন নিহত হয়েছেন।

কেন এখনও হামলা চালাতে পারছে ইরান?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে ইরান এখনও হামলা চালাতে সক্ষম—

১. পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি মজুদ

ইরানের কাছে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র আগে থেকেই ছিল। কিছু ধ্বংস হলেও পুরো ভাণ্ডার শেষ হয়নি।

২. মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার

ইরান এখন স্থায়ী ঘাঁটির বদলে চলমান (মোবাইল) লঞ্চার ব্যবহার করছে, যা খুঁজে বের করা কঠিন।

৩. ছোট আকারে কিন্তু ধারাবাহিক হামলা

যুদ্ধের শুরুতে একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও এখন এক বা দুইটি করে ছোড়া হচ্ছে—যাকে হ্যারাসমেন্ট ফায়ার বলা হয়।

৪. সস্তা ড্রোনের ব্যবহার

ইরানের শাহেদ ড্রোন সহজে তৈরি করা যায় এবং একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে ফেলা যায়।

হামলা কমেছে, কিন্তু থামেনি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনে যেখানে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, এখন তা অনেক কমে এসেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৮৬ শতাংশ কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন সরাসরি বড় আক্রমণের বদলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কৌশল নিচ্ছে। এতে কম সংখ্যক হামলা চালিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখা যায়।

এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ, যেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সফল ড্রোন হামলাও নিরাপত্তার ধারণা ভেঙে দিতে পারে”—আর এটাই ইরানের বর্তমান কৌশলের মূল শক্তি।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow