ইরান যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতিতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পাঁচ মাস পার হলেও এর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর বহু বিলিয়ন ডলারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।
এক বিশ্লেষণে পত্রিকাটি বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু আগস্ট চলে আসলেও যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এতে যুদ্ধের কৌশলগত ভুল হিসাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিচালনায় সরকারের অন্তত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, পেন্টাগনের অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তবে দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। ২৪ জুলাই পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে বছরের শে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পাঁচ মাস পার হলেও এর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর বহু বিলিয়ন ডলারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।
এক বিশ্লেষণে পত্রিকাটি বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু আগস্ট চলে আসলেও যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এতে যুদ্ধের কৌশলগত ভুল হিসাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিচালনায় সরকারের অন্তত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, পেন্টাগনের অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তবে দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। ২৪ জুলাই পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে বছরের শেষ নাগাদ এ ক্ষতির পরিমাণ ৩১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়েছে। সংঘাত না হলে যে দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। কয়েক দফা প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আবার তা ৬০ ডলারের ঘরে নেমে এসেছিল। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততই দাম আরও বাড়ছে।
দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষতি করেছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদের ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির তিনটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য আরও অনেক বেশি হতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং সামরিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ