ইসরায়েলের লেবানন-গাজা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা হুমকিতে

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ এবং গাজায় চলমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যাহত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল। সোমবার (২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা লেবাননসহ সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য। একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানেই সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এবং লেবাননে জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধমূলক তৎপরতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার না মানার সুস্পষ্ট প্রমাণ। ইরানের এই মন্তব্যের মধ্যেই দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়ে এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে সেখানে হামলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগের দিন ইসরায়েলি স্থলবাহিনী গত ২৬ বছরের মধ্যে লেবান

ইসরায়েলের লেবানন-গাজা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা হুমকিতে

লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ এবং গাজায় চলমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যাহত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।

সোমবার (২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা লেবাননসহ সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য। একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানেই সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এবং লেবাননে জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধমূলক তৎপরতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার না মানার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

ইরানের এই মন্তব্যের মধ্যেই দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়ে এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে সেখানে হামলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগের দিন ইসরায়েলি স্থলবাহিনী গত ২৬ বছরের মধ্যে লেবাননের সবচেয়ে গভীর এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করেছেন। সোমবার এক পোস্টে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে এবং বৈরুতের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ হয়েছে এবং উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত হিজবুল্লাহর কার সঙ্গে ট্রাম্প কথা বলেছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও আলোচনার শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানও স্থগিত করেছে ইরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা ও লেবাননে জায়নবাদী বাহিনীর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।

পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ‘নতুন ফ্রন্ট’ খোলা হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে।

আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, লেবানন ও গাজায় নির্ধারিত লালরেখা অতিক্রম করাকে ইরান সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর বিরোধ থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতের যে কোনো সমঝোতায় লেবানন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিন। সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow