ইস্তিখারার বাস্তবতা কী, কতবার করা উচিত?
মানবজীবনে চলার পথে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হতে হয়। ব্যবসা, বিয়ে, চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথ বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের এই মুহূর্তে মুমিনের প্রধান আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর দরবারে সঠিক পথের দিশা ভিক্ষা করা, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইস্তিখারা’ বলা হয়। তবে, আমাদের সমাজে ইস্তিখারা নিয়ে নানাবিধ ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইস্তিখারা করলে স্বপ্নে কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত পাওয়া জরুরি বা এর মাধ্যমে সরাসরি গায়েবি খবর জানা যায়। এই প্রেক্ষাপটে দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতা এক ফতোয়ায় ইস্তিখারার প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছে। দেওবন্দের বিজ্ঞ মুফতিগণের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইস্তিখারার হাকিকত বা বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ইস্তিখারা মূলত কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার কাছে কল্যাণ ও সাহায্য চাওয়ার একটি বিশেষ দোয়া। ইস্তিখারার প্রকৃত বাস্তবতা ইস্তিখারা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘খাইর’ বা কল্যাণ প্রার্থনা করা। শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো, নিজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মহান আল্লাহ
মানবজীবনে চলার পথে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হতে হয়। ব্যবসা, বিয়ে, চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথ বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের এই মুহূর্তে মুমিনের প্রধান আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর দরবারে সঠিক পথের দিশা ভিক্ষা করা, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইস্তিখারা’ বলা হয়।
তবে, আমাদের সমাজে ইস্তিখারা নিয়ে নানাবিধ ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইস্তিখারা করলে স্বপ্নে কোনো সুনির্দিষ্ট সংকেত পাওয়া জরুরি বা এর মাধ্যমে সরাসরি গায়েবি খবর জানা যায়। এই প্রেক্ষাপটে দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতা এক ফতোয়ায় ইস্তিখারার প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছে।
দেওবন্দের বিজ্ঞ মুফতিগণের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইস্তিখারার হাকিকত বা বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ইস্তিখারা মূলত কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার কাছে কল্যাণ ও সাহায্য চাওয়ার একটি বিশেষ দোয়া।
ইস্তিখারার প্রকৃত বাস্তবতা
ইস্তিখারা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘খাইর’ বা কল্যাণ প্রার্থনা করা। শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো, নিজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ এবং সঠিক পথের নির্দেশনা চেয়ে দোয়া করা।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম হজরত থানভী রহ.-এর মতে, ইস্তিখারা হলো ‘তলবে ইআানাত আলাল খাইর’ অর্থাৎ কোনো ভালো কাজ সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে যে, ‘হে আল্লাহ! আমি যে কাজটি করতে যাচ্ছি, যদি তাতে আমার জন্য কল্যাণ থাকে তবে আপনি তা করার তৌফিক দিন; আর যদি তাতে অমঙ্গল থাকে তবে আমাকে তা থেকে বিরত রাখুন’।
ইস্তিখারার মূল ফলাফল হলো ‘দিলের ঝোঁক’ বা অন্তরের স্বস্তি। ইস্তিখারার পর মানুষের মন যেদিকে ধাবিত হয় বা যে সিদ্ধান্তে স্থির হয়, তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত থাকে বলে ধরে নিতে হয়। এমনকি যদি ইস্তিখারার পর কাজটি সম্পন্ন না হয় বা দেরি হয়, তবে বুঝতে হবে সেই না হওয়া বা বিলম্বের মধ্যেই আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রহস্যময় কল্যাণ ছিল।
কতবার ইস্তিখারা করা উচিত?
ইস্তিখারা কতবার করতে হবে সে বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার আলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.)-কে সম্বোধন করে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে আনাস! যখন তুমি কোনো কাজের সংকল্প করো, তখন তোমার রবের কাছে সাতবার ইস্তিখারা করো। এরপর তোমার অন্তরে যে সিদ্ধান্তটি প্রথমে আসে সেদিকে তাকাও, কারণ তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে’।
দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণত সাতবার ইস্তিখারা করা সুন্নত ও মুস্তাহাব। তবে যদি একবার বা দুইবার ইস্তিখারা করার পর মনের দ্বিধা কেটে যায় এবং কোনো এক দিকে স্থির সিদ্ধান্ত চলে আসে, তবে সেই অনুযায়ী কাজ করা যাবে। যদি কয়েকবার করার পরও মনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না যায়, তবে সাতবার পূর্ণ করা উত্তম।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশয় থাকলে করণীয়
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বারবার ইস্তিখারা করার পরও যদি মনের সংশয় না কাটে তবে কী করণীয়? শরিয়তের সমাধান হলো, সাতবার ইস্তিখারা করার পরও যদি হৃদয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঝোঁক বা দিকনির্দেশনা অনুভূত না হয়, তবে ব্যক্তি যেকোনো এক দিকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। আল্লাহর ওপর ভরসা করে যে পথেই তিনি অগ্রসর হবেন, ইনশাআল্লাহ তাতেই তার জন্য খাইর বা মঙ্গল থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইস্তিখারা কেবল স্বপ্নের আশায় বসে থাকার নাম নয়, বরং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের তৌফিক চাওয়ার নাম। এটি মুমিনের জীবনের এক বড় নিয়ামত, যা তাকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে মানসিক প্রশান্তি দান করে।
তথ্যসূত্র: ফতোয়া নং- ২২৩-৮১/টিডি-মুলহাকা=৫/১৪৪৩, দারুল ইফতা, দারুল উলুম দেওবন্দ
What's Your Reaction?