ঈদযাত্রার চাপ নেই গাবতলীতে, সহজেই মিলছে টিকিট
আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা। এরপরই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঈদের টানা ছুটি। এবার দীর্ঘ ছুটি মেলায় অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছেড়েছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখনো ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। ফলে ভিড় বেড়েছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে। তবে ব্যতিক্রম গাবতলী বাস টার্মিনালে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেখানে ব্যস্ততা থাকার কথা, সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। টার্মিনালে যাত্রী না থাকায় কাউন্টারে বসে অবসর সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালে নেই যাত্রীদের ভিড়। অনেকটাই ফাঁকা বাস কাউন্টারগুলো। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ যাত্রীর উপস্থিতি কিছুটা বেশি। যদিও অধিকাংশ কাউন্টারে যাত্রী নেই বললেই চলে। কাউন্টারে দ্বায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকদের দেখা যায় যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। এছাড়া সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি টার্মিনালে র্যাব ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারি করতে দেখা গেছে। শ্যামলী পর
আর মাত্র দুদিনের অপেক্ষা। এরপরই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঈদের টানা ছুটি। এবার দীর্ঘ ছুটি মেলায় অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছেড়েছেন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখনো ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। ফলে ভিড় বেড়েছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে।
তবে ব্যতিক্রম গাবতলী বাস টার্মিনালে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেখানে ব্যস্ততা থাকার কথা, সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। টার্মিনালে যাত্রী না থাকায় কাউন্টারে বসে অবসর সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালে নেই যাত্রীদের ভিড়। অনেকটাই ফাঁকা বাস কাউন্টারগুলো। তবে বিগত কয়েকদিনের তুলনায় আজ যাত্রীর উপস্থিতি কিছুটা বেশি। যদিও অধিকাংশ কাউন্টারে যাত্রী নেই বললেই চলে।
কাউন্টারে দ্বায়িত্বরত পরিবহন শ্রমিকদের দেখা যায় যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। এছাড়া সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি টার্মিনালে র্যাব ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজরদারি করতে দেখা গেছে।
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. জিকু মল্লিক জাগো নিউজকে বলেন, আর বলেন না ভাই, আমাদের অবস্থা শেষ। ঈদের বাজার গতকাল থেকে যেগুলো অতিরিক্ত ট্রিপ যাচ্ছে তার কোনো কোনো ট্রিপে শুধু খরচের টাকা উঠছে। আবার কোনো গাড়িতে ৩-৪ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে, আসন খালি যাচ্ছে। এগুলো নন এসি গাড়ির অবস্থা। এসি গাড়িতে অবস্থা আরও খারাপ। ব্রান্ডের যতগুলো এসি গাড়ি গেছে অধিকাংশ গাড়িতেই আসন খালি গেছে।
গতকালের টিকিট বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ গেছে। তবে যেহেতু গার্মেন্টস ছুটি হয়েছে, সে হিসেবে গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা যাত্রীর চাপ আছে।
দেশ ট্রাভেলস পরিবহনের চালকের সহকারী অনিক মির্জা জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রীর চাপ কিচ্ছু নাই এবার। একটা সময় গাবতলী আসলেই ভালো লাগতো। মানুষ গম গম করতো। যাত্রীরা এসে একটা টিকিটের জন্য রিকোয়েস্ট করতো, ভালো লাগতো। আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে আছি- এখন পর্যন্ত কেউ এসে বলেনি ভাই একটা ছিট দেন। দোকানে বসে আছি, অথচ একসময় বসার সময় পেতাম না।
যাত্রীর চাপ না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষ বিভিন্ন রুটে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া সব জায়গা গাড়ির কাউন্টার হয়ে গেছে। মানুষ গাবতলীতে আসছে না। আমরা ভাবছিলাম আজকে অনেক চাপ হবে। কিন্তু কিছুই না, যাত্রী নেই।
সাতক্ষীরা লাইনের কাউন্টার মাস্টার নাম প্রকাশ না করে বলেন, বেচা-বিক্রির অবস্থা কী বলবো ভাই, যাত্রী অনেক কম। আগের ঈদগুলোতে যাত্রী এসে ভিড় করতো, এখন তেমন কোনো ভিড় নেই। আগাম যেসব টিকিট বিক্রি হয়েছে সেই যাত্রীগুলোই কাউন্টারে আসছেন। শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত গাড়ি ছাড়তে পারছি না। একে তো তেলের সমস্যা, যাত্রীরও চাপ নেই। এসব কারণে অতিরিক্ত গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়, ছাদেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফাঁকা, চন্দ্রায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি
গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ যাত্রীর চাপ কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতদিনের তুলনায় আজ একটু যাত্রীর চাপ আছে।
কথা হয় ঝিনাইদগামী রাসেলের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, কাউন্টারে আসলাম কেবলই, এখনো টিকিট কাটিনি।
এখন টিকিট পাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিকিট অ্যাভেইলেবল, ডাকাডাকি করছে। কাউন্টারে খোঁজ নিয়েছি, টিকিট আছে।
বগুড়ার যাত্রী মো. রাসেল আহমেদ বলেন, মাত্রই কাউন্টারে আসলাম। এখনো টিকিট কাটা হয়নি। টিকিট পাবো আশা করি।
দিনাজপুরের যাত্রী সালমান বলেন, দুদিন আগে অনলাইন থেকে টিকিট কেটেছি, কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়নি। আগে যেমন অগ্রিম টিকিট ছাড়ার পর পর অনলাইনে ঢুকলেই দেখা যেত টিকিট নেই। কিন্তু এবার ইজিলি টিকিট পেয়েছি। আমি যখন টিকিট কেটেছি তখনও গাড়িতে আরও আসন খালি ছিল। টিকিট কাটতে এবার কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।
যশোরের যাত্রী মো. টিটুল বলেন, সাড়ে ৯টার সময় গাড়ি। একটু আগেই কাউন্টারে এসেছি। এসেই টিকিট পেয়েছি। কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তবে ঈদের সময় বলে ভাড়া কিছুটা বেশি নিয়েছে।
কেআর/কেএসআর
What's Your Reaction?