ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে টহল, চেকপোস্ট ও ক্যাম্প বসাচ্ছে পুলিশ

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপরাধ দমন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ২২ মে থেকে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু জনগণের সহযোগিতাকে গুরুত্ব ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, আশপাশের বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান-মলম পার্টি ও পকেটমারদের দমন করতে বিশেষ নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাট ও ভিড় থাকে এমন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা নিরাপত্তা দল কাজ করবে। এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু হবে, যার মধ্যে যাতায়াতকেন্দ্রিক ব্যবস্থা ২২ মে থেকে কার্যকর করা হবে। পশুর হাটগুলো ঈদের চারদিন আগে থেকে শুরু হয়ে নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। পুরো ঈদযাত্রা চলাকালীন মাঠপর্যায়ে পুলিশি টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে; যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে টহল, চেকপোস্ট ও ক্যাম্প বসাচ্ছে পুলিশ
  • গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • অপরাধ দমন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি
  • ২২ মে থেকে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু
  • জনগণের সহযোগিতাকে গুরুত্ব

ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগ আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, আশপাশের বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান-মলম পার্টি ও পকেটমারদের দমন করতে বিশেষ নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পশুর হাট ও ভিড় থাকে এমন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা নিরাপত্তা দল কাজ করবে।

এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু হবে, যার মধ্যে যাতায়াতকেন্দ্রিক ব্যবস্থা ২২ মে থেকে কার্যকর করা হবে। পশুর হাটগুলো ঈদের চারদিন আগে থেকে শুরু হয়ে নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। পুরো ঈদযাত্রা চলাকালীন মাঠপর্যায়ে পুলিশি টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে; যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম মেনে চলা, টিকিটে অনিয়ম এড়িয়ে যাওয়া এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ছবি: জাগো নিউজ

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক

জাগো নিউজ: ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থায় প্রস্তুতি কী?

তালেবুর রহমান: ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে ঢাকা শহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত করে, বিশেষ করে সদরঘাট টার্মিনাল দিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ আগে থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। লঞ্চ টার্মিনাল এবং লালবাগ জোনের বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং নির্বিঘ্ন হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

জাগো নিউজ: টার্মিনালগুলোতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

তালেবুর রহমান: বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এসব ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আরও পড়ুন
নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?

ঈদে সদরঘাটে কুলি সেবা ফ্রি, থাকবে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া
নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে: নৌমন্ত্রী

জাগো নিউজ: লঞ্চ ও যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে কী ব্যবস্থা থাকবে?

তালেবুর রহমান: ঈদের সময় গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং পকেটমারদের তৎপরতা রোধে আলাদা টিম কাজ করবে। নিয়মিত টহল এবং চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

জাগো নিউজ: এ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হবে?

তালেবুর রহমান: ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের বিশেষ প্রস্তুতি ধাপে ধাপে শুরু হবে। পশুর হাটের নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদের দিনসহ আগের সাত দিন চলবে। যাতায়াতকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী শুক্রবার (২২ মে) থেকে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কার্যকর করা হবে।

নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ও অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

তালেবুর রহমান: পশুর হাটগুলোতে যেন জনসাধারণের চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে।

জাগো নিউজ: লালবাগ জোনে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বা আশঙ্কা আছে কি?

তালেবুর রহমান: না, লালবাগ জোনে কোনো নির্দিষ্ট বড় ধরনের আশঙ্কা নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সদরঘাটসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী মানুষ যেন নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে যাত্রা করতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় নদীপথে থাকবে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

সদরঘাটে এক লঞ্চে আরেক লঞ্চের ধাক্কা, যুবক নিহত
বুড়িগঙ্গার বুকে ২৫ বছরের সংগ্রাম, ভাগ্য বদলায়নি রইস উদ্দিনের
সদরঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়ছে, ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধায় স্বস্তি

জাগো নিউজ: লালবাগ এলাকার পশুর হাট কবে থেকে শুরু হবে?

তালেবুর রহমান: লালবাগ এলাকায় এখনো পশুর হাট শুরু হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের চারদিন আগে থেকে এসব হাট চালু হবে। হাট শুরুর পর থেকেই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

জাগো নিউজ: ঈদযাত্রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কীভাবে কাজ করবে?

তালেবুর রহমান: ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে শুধু টার্মিনাল নয়, পুরো সংশ্লিষ্ট এলাকায়ই পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো থাকবে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সন্দেহভাজন কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও স্বাভাবিক রাখতে আলাদা টিম কাজ করবে, যাতে যানজট ও ভোগান্তি কমে আসে।

নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: ঈদের সময় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

তালেবুর রহমান: পুলিশ মনে করে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীরা যদি নিয়ম মেনে চলেন, টিকিট কালোবাজারি থেকে বিরত থাকেন এবং কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে পুলিশকে জানান, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

জাগো নিউজ: ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা।

তালেবুর রহমান: জাগো নিউজ ও পাঠকদেরও ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা। সবার ঈদযাত্রা শুভ হোক।

এমডিএএ/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow