ঈদের দিন পাড়া-মহল্লায় উদযাপন হোক ‘ইনসাফের দস্তরখান’

ঈদ আমাদের জন্য শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক পরীক্ষাও। আমরা কতটা মানুষ হতে পেরেছি, ঈদের দিন সেটিই যেন সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক, রঙিন আলো, সুস্বাদু খাবারের আয়োজন; সবকিছু মিলিয়ে যখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসবের আবহ তৈরি হয়, তখনই সমাজের আরেকটি চিত্র নীরবে চোখে পড়ে—কেউ আনন্দে উদ্বেল, আবার কেউ নীরবে বঞ্চনার ভার বয়ে বেড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈপরীত্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমাদের ঈদ কতটা পূর্ণ? বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লার সংস্কৃতি একসময় ছিল আন্তরিকতা ও ভাগাভাগির এক অনন্য উদাহরণ। ঈদের দিনে এক বাড়ির রান্না অন্য বাড়িতে যেত, দরিদ্র পরিবারের খোঁজ নেওয়া ছিল এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই সংস্কৃতি অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও ভোগবাদ আমাদের এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে পাশের ঘরের মানুষের কষ্টও অনেক সময় আমাদের স্পর্শ করে না। ইনসাফ মানে ন্যায়, সমতা। ঈদের দিন যদি সেই ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে আমাদের আনন্দ একপাক্ষিক থেকে যায় এই বাস্তবতায় ‘ইনসাফের দস্তরখান’ শুধু একটি শব্দবন্ধ নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয় সামাজিক আহ্বান। ইনসাফ মানে ন্যায়, সমতা। ঈদের

ঈদের দিন পাড়া-মহল্লায় উদযাপন হোক ‘ইনসাফের দস্তরখান’
ঈদ আমাদের জন্য শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সামাজিক পরীক্ষাও। আমরা কতটা মানুষ হতে পেরেছি, ঈদের দিন সেটিই যেন সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক, রঙিন আলো, সুস্বাদু খাবারের আয়োজন; সবকিছু মিলিয়ে যখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসবের আবহ তৈরি হয়, তখনই সমাজের আরেকটি চিত্র নীরবে চোখে পড়ে—কেউ আনন্দে উদ্বেল, আবার কেউ নীরবে বঞ্চনার ভার বয়ে বেড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈপরীত্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমাদের ঈদ কতটা পূর্ণ? বাংলাদেশের পাড়া-মহল্লার সংস্কৃতি একসময় ছিল আন্তরিকতা ও ভাগাভাগির এক অনন্য উদাহরণ। ঈদের দিনে এক বাড়ির রান্না অন্য বাড়িতে যেত, দরিদ্র পরিবারের খোঁজ নেওয়া ছিল এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই সংস্কৃতি অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও ভোগবাদ আমাদের এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে পাশের ঘরের মানুষের কষ্টও অনেক সময় আমাদের স্পর্শ করে না। ইনসাফ মানে ন্যায়, সমতা। ঈদের দিন যদি সেই ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে আমাদের আনন্দ একপাক্ষিক থেকে যায় এই বাস্তবতায় ‘ইনসাফের দস্তরখান’ শুধু একটি শব্দবন্ধ নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয় সামাজিক আহ্বান। ইনসাফ মানে ন্যায়, সমতা। ঈদের দিন যদি সেই ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে আমাদের আনন্দ একপাক্ষিক থেকে যায়। সমাজের একটি অংশ যখন বাহারি খাবারে টেবিল ভরিয়ে তোলে, তখন আরেকটি অংশ হয়তো শুধু তাকিয়ে থাকে, এই দৃশ্য কোনোভাবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রতিফলন হতে পারে না। তাই প্রয়োজন একটি নতুন সামাজিক চর্চা, পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সম্মিলিত উদ্যোগ। স্থানীয় যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন, এমনকি মসজিদকেন্দ্রিক উদ্যোগে ঈদের দিন আয়োজন করা যেতে পারে ‘ইনসাফের দস্তরখান’। যেখানে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ করবে। কেউ দাতা, কেউ গ্রহিতা—এই বিভাজনটিও সেখানে গুরুত্ব পাবে না; বরং সবাই হবে সমান মর্যাদার অংশীদার। এমন উদ্যোগ শুধু ক্ষণিকের সহায়তা নয়, এটি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এতে করে ধনীর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে, আর দরিদ্রের মধ্যে জন্ম নেবে আত্মমর্যাদার অনুভূতি। রাষ্ট্র কিংবা বড় বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের বাইরে থেকেও সমাজ পরিবর্তনের একটি বড় শক্তি হচ্ছে এই পাড়া-মহল্লার মানুষ। যদি প্রতিটি মহল্লায় এমন একটি উদ্যোগ গড়ে ওঠে, তবে তা ধীরে ধীরে একটি জাতীয় সংস্কৃতিতে রূপ নিতে পারে। আমরা প্রায়ই বলি, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ যদি সবার না হয়, তবে সেটি প্রকৃত অর্থে ঈদ নয়। ঈদ আমাদের শিখিয়েছে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও সমতার শিক্ষা। এই শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে ‘ইনসাফের দস্তরখান’। এবারের ঈদে আসুন, আমরা নতুন পোশাকের আনন্দের পাশাপাশি একটি নতুন চিন্তারও সূচনা করি। নিজের পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে পাড়া-মহল্লার মানুষদের নিয়ে বসি একসঙ্গে। ভাগাভাগি করি খাবার, ভাগাভাগি করি আনন্দ। হয়তো এই ছোট উদ্যোগই একদিন আমাদের সমাজকে আরও মানবিক, আরও ন্যায়ভিত্তিক করে তুলবে। কারণ সত্যিকার ঈদ তখনই, যখন আনন্দের দস্তরখানে কারো জায়গা খালি থাকে না। লেখক : সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রদল

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow