উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত? জানালেন বিশেষজ্ঞ

ডিমকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম বহুমুখী এবং পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেই প্রথম কোপটা পড়ে এই ডিমের কুসুমের ওপর। দীর্ঘকাল ধরে হৃদরোগের ঝুঁকির ভয়ে অনেকেই ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা কি সত্যিই এমনটা মনে করেন? এনডিটিভি ফুডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিমের কুসুম নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের এই ভীতির পেছনে নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ডিমের কুসুমে আসলে কী থাকে? একটি ডিমের কুসুমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। যেখানে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক কোলেস্টেরল গ্রহণের মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। এই হিসাব থেকেই অনেকে ধরে নেন যে ডিমের কুসুম দ্রুত এই সীমা অতিক্রম করে ফেলে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের কোলেস্টেরল সরাসরি আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ধারণ করে না। রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির আসল কারণ কী? পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, ডিমের মতো খাবারের প্রাকৃতিক কোলেস্টেরল অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের

উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে কি ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা উচিত? জানালেন বিশেষজ্ঞ

ডিমকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম বহুমুখী এবং পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেই প্রথম কোপটা পড়ে এই ডিমের কুসুমের ওপর। দীর্ঘকাল ধরে হৃদরোগের ঝুঁকির ভয়ে অনেকেই ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা কি সত্যিই এমনটা মনে করেন? এনডিটিভি ফুডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিমের কুসুম নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের এই ভীতির পেছনে নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

ডিমের কুসুমে আসলে কী থাকে?

একটি ডিমের কুসুমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। যেখানে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক কোলেস্টেরল গ্রহণের মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। এই হিসাব থেকেই অনেকে ধরে নেন যে ডিমের কুসুম দ্রুত এই সীমা অতিক্রম করে ফেলে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের কোলেস্টেরল সরাসরি আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ধারণ করে না।

রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির আসল কারণ কী?

পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, ডিমের মতো খাবারের প্রাকৃতিক কোলেস্টেরল অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই রক্তের কোলেস্টেরল বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে খাবারের প্রাকৃতিক কোলেস্টেরলের চেয়ে ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ বা সম্পৃক্ত চর্বির প্রভাব অনেক বেশি। তাই শুধুমাত্র ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা অনেক বেশি কার্যকর।

পুষ্টির পাওয়ার হাউস ডিমের কুসুম

ডিম মানেই শুধু কোলেস্টেরল নয়, এটি ভিটামিন ও খনিজের বিশাল ভাণ্ডার। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি-ভিটামিনস (যেমন- বি২, ফোলেট) এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। কুসুম পুরোপুরি বাদ দিলে শরীর এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো থেকে বঞ্চিত হয়।

দিনে কয়টি ডিম নিরাপদ?

ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের পরামর্শ অনুযায়ী:

  • সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: প্রতিদিন ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২টি ডিমের কুসুম খাওয়া নিরাপদ।
  • উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে: প্রতিদিন ৪টি ডিমের সাদা অংশ এবং ১টি কুসুম খাওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের শেষ কথা

ডিমের কুসুম আমাদের শত্রু নয়, শত্রু হলো আমাদের ভুল জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলেও ডিম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। বরং কুসুম খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রেখে এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ভয় না পেয়ে পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে ডিম খান।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow