উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং!

কিম জং উন -এর আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। আগামী ৮-৯ জুন এই সফরে দিন ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এই ঘোষণার পর শুক্রবার (৫ জুন) বেইজিং-পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীনা প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফরের ঘোষণা দেওয়া হলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এই সফরটি গত সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালের আগে ২০০৫ সালের পর কোনো চীনা নেতা উত্তর কোরিয়া সফর করেননি। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চীন তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র উত্তর কোরিয়াকে আবারও নিজের কূটনৈতিক পরিসরে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আন

উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং!

কিম জং উন -এর আমন্ত্রণে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। আগামী ৮-৯ জুন এই সফরে দিন ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এই ঘোষণার পর শুক্রবার (৫ জুন) বেইজিং-পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীনা প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফরের ঘোষণা দেওয়া হলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

এই সফরটি গত সাত বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালের আগে ২০০৫ সালের পর কোনো চীনা নেতা উত্তর কোরিয়া সফর করেননি।

তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চীন তার একমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক মিত্র উত্তর কোরিয়াকে আবারও নিজের কূটনৈতিক পরিসরে সক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কিম জং উনও তার দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ও সহায়তাদাতা দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।

এর আগে গত মে মাসে চীন সফর করে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করতে চীনে যান রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন-শি-এর ওই বৈঠকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করেন।

কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছেন পুতিন। এর ফলে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওই সফরে শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ না করার জন্য ট্রাম্পকে সতর্ক করেন শি জিনপিং। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী। এর আগের মেয়াদে কিমের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন ট্রাম্প।

যদিও পিয়ংইয়ং মস্কোর আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে তবুও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এবং কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার জন্য চীন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনদাতা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কমিটি অন নর্থ কোরিয়া-এর ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশই চীনের ওপর নির্ভরশীল।

শি সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে কিম ও পুতিনকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত এপ্রিল মাসে পিয়ংইয়ং সফর করেছিলেন। ওই সফরে তিন বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমন্বয় জোরদার এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত। তবে, বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার জ্যামিতিক হারে সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক হং মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বেইজিং উত্তর কোরিয়ার অত্যন্ত দ্রুতগতির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সতর্ক নজর রাখছে।

তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। উত্তর কোরিয়া যদি উসকানিমূলক ও সংঘাতমুখী আচরণ করে, তাহলে তা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা চীনের স্বার্থের পরিপন্থি।

অতীতে দক্ষিণ কোরিয়াও আশা প্রকাশ করেছে যে, উত্তর কোরিয়া ও চীনের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেইজিং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow