ঋণের বদলে বিনিয়োগে জোর বাংলাদেশের: চীন–ভারত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন প্রাণশক্তি দিতে ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিতুমীর বলেন, পতিত সরকার অর্থনীতিকে একটি দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে। এখন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। সেই রাজস্ব দিয়েই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবামূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ভারতের সঙ্গে এলওসি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনাভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের চলমান প্রকল্প এবং ভারতের দেওয়া লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)- এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, অত

ঋণের বদলে বিনিয়োগে জোর বাংলাদেশের: চীন–ভারত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন প্রাণশক্তি দিতে ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, পতিত সরকার অর্থনীতিকে একটি দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে। এখন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। সেই রাজস্ব দিয়েই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবামূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে এলওসি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের চলমান প্রকল্প এবং ভারতের দেওয়া লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)- এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিতুমীর।

তিনি বলেন, অতীতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা, কতগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোনো যায় এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে অতীতে হওয়া কিছু চুক্তিকে ‘অসম’ উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, ভবিষ্যতে যাতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় সেভাবে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের বিদ্যুৎ বাজার বা পাওয়ার এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থার সম্ভাবনাও সরকার বিবেচনা করবে।

চীনের সঙ্গে শিল্প বিনিয়োগে গুরুত্ব
চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মূলত বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরের সময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য অনেক বড় হলেও এখন প্রয়োজন শিল্পায়নভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো। আমরা চাই ঋণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে যেতে।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার, চীনা সরকার এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে- বলে জানান তিতুমীর।

বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিতুমীর বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে এগোয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণনির্ভরতা থেকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নভিত্তিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।

সরকারের লক্ষ্য এমন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে সহায়ক হবে।

এমএএস/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow