এই সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিতে চাই: বাঁধন
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বরাবরই নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নারীর অধিকার, সামাজিক বৈষম্য ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়েও নিয়মিত কথা বলেন তিনি। এবার নিজেকে ‘ফেমিনিস্ট’ বা নারীবাদী হিসেবে উল্লেখ করে সমাজের প্রচলিত কিছু ধারণার কঠোর সমালোচনা করলেন এই অভিনেত্রী। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাগো নিউজের বিশেষ আয়োজন ‘জাগো তারকা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যক্তিজীবন, ঈদ উদযাপন এবং ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন বাঁধন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, অনেকেই তাকে নারীবাদী বলেন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য কী? জবাবে বাঁধন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাকে নারীবাদী বলে। আমি নারীবাদী, আমি অবশ্যই ফেমিনিস্ট। কারণ আমি এই সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিতে চাই। আমার স্বপ্ন হচ্ছে, একসময় এই সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো একা সবকিছু বদলে দিতে পারব না। কিন্তু আমার জায়গা থেকে কিছু বিষয়ে আঘাত করতে পারি, যেগুলো সমাজ নারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং যার কারণে মেয়েরা কষ্ট পায়।’ নারীদের বয়স নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে বাঁধন বলেন, সমাজ মেয়েদের এমনভাবে শেখায় যেন
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বরাবরই নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নারীর অধিকার, সামাজিক বৈষম্য ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়েও নিয়মিত কথা বলেন তিনি। এবার নিজেকে ‘ফেমিনিস্ট’ বা নারীবাদী হিসেবে উল্লেখ করে সমাজের প্রচলিত কিছু ধারণার কঠোর সমালোচনা করলেন এই অভিনেত্রী।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাগো নিউজের বিশেষ আয়োজন ‘জাগো তারকা’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যক্তিজীবন, ঈদ উদযাপন এবং ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন বাঁধন।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়, অনেকেই তাকে নারীবাদী বলেন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য কী?
জবাবে বাঁধন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাকে নারীবাদী বলে। আমি নারীবাদী, আমি অবশ্যই ফেমিনিস্ট। কারণ আমি এই সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিতে চাই। আমার স্বপ্ন হচ্ছে, একসময় এই সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো একা সবকিছু বদলে দিতে পারব না। কিন্তু আমার জায়গা থেকে কিছু বিষয়ে আঘাত করতে পারি, যেগুলো সমাজ নারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং যার কারণে মেয়েরা কষ্ট পায়।’
নারীদের বয়স নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে বাঁধন বলেন, সমাজ মেয়েদের এমনভাবে শেখায় যেন বয়স লুকিয়ে রাখা একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। সবসময় তরুণ দেখাতে হবে, বয়স প্রকাশ করা যাবে না- এমন চাপ অনেক নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে।
তার ভাষায়, ‘আমি যখন নিজের বয়স বলি, তখন হয়তো আরেকজন নারী সাহস পায়। সে ভাবতে পারে, বয়স লুকানোর কী আছে? প্রতিটি বয়সেরই আলাদা সৌন্দর্য আছে। কিন্তু আমাদের সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতেই দেওয়া হয় না।’
বাঁধনের মতে, বয়স নিয়ে অকারণ দুশ্চিন্তা ও সামাজিক চাপ নারীদের জীবনে বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। এসব বিষয় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও এসব কথা বলে স্বস্তি পাই। যদি আমার কথা শুনে একজন বা দুজন মানুষও অনুপ্রাণিত হয়, সেটাই আমার জন্য বড় অর্জন। কোনো পুরস্কারের চেয়েও এটা অনেক বড় পাওয়া।’
আরও পড়ুন:
আল্লাহ মাফ করুক, কানে ধরি: রাজনীতির কথা শুনে শিরিন শিলা
শাকিব-অপুর সঙ্গে অভিনয় বদলে দিয়েছিল শিরিন শিলার ভাবনা
অভিনেত্রীর বিশ্বাস, সমাজে পরিবর্তন আনতে বড় কোনো পদক্ষেপের পাশাপাশি ছোট ছোট সচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা খোলামেলাভাবে তুলে ধরতে চান।
বাঁধনের মতে, নারীদের উচিত বয়স, চেহারা কিংবা সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নানা মানদণ্ড নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজের জীবন, স্বপ্ন ও কাজের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া। আর সেই পরিবর্তনের স্বপ্ন থেকেই তিনি নিজেকে একজন ফেমিনিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।
এমএমএফ/এমএস
What's Your Reaction?