একই পোশাক বারবার পরে যে বার্তা দিলেন পিয়া জান্নাতুল
ফ্যাশন মানেই প্রতিদিন নতুন পোশাক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন’ বা টেকসই ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশেও সচেতনতার এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই বার্তাই এবার তুলে ধরলেন দেশের জনপ্রিয় মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পিয়া জানিয়েছেন, তিনি একই পোশাক বারবার পরেন এবং বিষয়টি নিয়ে একটুও অস্বস্তি নয়, বরং গর্ববোধ করেন। তার এই বক্তব্য অনেকের কাছে শুধু একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, বরং দায়িত্বশীল ফ্যাশনের এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে। ফ্যাশনের জগতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে নতুন পোশাক, নতুন কালেকশন কিংবা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচয় পিয়ার জন্য নতুন কিছু নয়। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে দেশি-বিদেশি অসংখ্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে এই দীর্ঘ পথচলায় একটি প্রশ্ন বারবার তাকে ভাবিয়েছে, এত পোশাক তৈরি হয়, এত মানুষ কেনেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পোশাকগুলোর কী হয়? এই প্রশ্ন থেকেই ধীরে ধীরে বদলে যায় তার ফ্যাশন ভাবনা। পিয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ফ্যাশন শিল্প শুধু সৌন্দর্যের নয়, পরিবেশের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।বিশ্বব
ফ্যাশন মানেই প্রতিদিন নতুন পোশাক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন’ বা টেকসই ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশেও সচেতনতার এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই বার্তাই এবার তুলে ধরলেন দেশের জনপ্রিয় মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পিয়া জানিয়েছেন, তিনি একই পোশাক বারবার পরেন এবং বিষয়টি নিয়ে একটুও অস্বস্তি নয়, বরং গর্ববোধ করেন। তার এই বক্তব্য অনেকের কাছে শুধু একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, বরং দায়িত্বশীল ফ্যাশনের এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে।
ফ্যাশনের জগতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে নতুন পোশাক, নতুন কালেকশন কিংবা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচয় পিয়ার জন্য নতুন কিছু নয়। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে দেশি-বিদেশি অসংখ্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে এই দীর্ঘ পথচলায় একটি প্রশ্ন বারবার তাকে ভাবিয়েছে, এত পোশাক তৈরি হয়, এত মানুষ কেনেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পোশাকগুলোর কী হয়? এই প্রশ্ন থেকেই ধীরে ধীরে বদলে যায় তার ফ্যাশন ভাবনা।
পিয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ফ্যাশন শিল্প শুধু সৌন্দর্যের নয়, পরিবেশের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
বিশ্বব্যাপী মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ আসে ফ্যাশন শিল্প থেকে। শুধু তাই নয়, একটি সাধারণ কটন টি-শার্ট তৈরি করতেও প্রয়োজন হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ লিটার পানি। অর্থাৎ আমরা যে পোশাকটি খুব সহজে কিনে ফেলি, তার পেছনে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার।
একসময় একই পোশাক একাধিকবার পরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংকোচ কাজ করত। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একই ড্রেসে ছবি দেওয়া যেন এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞাই ছিল। কিন্তু সেই ধারণাই বদলে দিচ্ছেন বিশ্বের অনেক তারকা ও ফ্যাশন আইকন। তাদের মতোই পিয়াও বিশ্বাস করেন, একটি পোশাক যত বেশি ব্যবহার করা যায়, সেটিই প্রকৃত দায়িত্বশীল ফ্যাশন। একটি পোশাক একদিন পরেই আলমারির কোণে তুলে রাখা নয়, বরং নতুনভাবে স্টাইলিং করে বারবার ব্যবহার করাই এখন স্মার্ট ফ্যাশনের অংশ।
পিয়ার মতে, ফ্যাশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো, মানসম্মত পোশাক কেনা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করার অভ্যাস তৈরি করা-এসব ছোট পরিবর্তনই পরিবেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে। তিনি মনে করেন, শুধু নতুন ট্রেন্ডের পেছনে ছুটলেই ফ্যাশন সচেতন হওয়া যায় না। বরং নিজের প্রয়োজন বুঝে কেনাকাটা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘রিপিট আউটফিট’ বা একই পোশাক বারবার পরার সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে হলিউড তারকা-অনেকেই এখন একই পোশাক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতির প্রসার ঘটছে। পিয়া জান্নাতুলের এই বার্তা তাই শুধু ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য নয়, পরিবেশ সচেতন মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

পিয়ার ভাষায়, ফ্যাশন অবশ্যই সুন্দর হবে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের জন্য যেন প্রকৃতি, প্রাণী কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মূল্য দিতে না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, প্রয়োজন ছাড়া নতুন পোশাক না কিনতে এবং নিজের পছন্দের পোশাকগুলো যত বেশি সম্ভব ব্যবহার করতে।

বাগানে চাষ করেই ফিট থাকেন জয়া আহসান
ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে। এখন স্টাইল শুধু নতুন পোশাকের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং নিজের সিদ্ধান্তের ওপর। আর সেই নতুন ফ্যাশন দর্শনেরই একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন পিয়া জান্নাতুল।
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
