এক গ্লাসে দুধপান করে নায়ক আলমগীরের ভাই হয়েছিলেন জাভেদ

বাংলাদেশি সিনেমার নাচের বিপ্লবের কারিগর নায়ক জাভেদ আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। এই সময়ে স্মরণ করা হচ্ছে তার বলা নানা কথা, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব আর মানবিক বন্ধনের গল্প। নায়ক আলমগীরের সঙ্গে জাভেদের আজীবনের সম্পর্ক ছিলো। সেটা বন্ধুত্বের এবং ভাতৃত্বের। দীর্ঘদিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন জাভেদ। সেইসময় চলচ্চিত্রের লোকদের সাথে খুব একটা যোগাযোগ হতো না তার। সে বিষয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, নায়করাজ রাজ্জাক যতদিন বেঁচে ছিলেন বড় ভাই ও বন্ধুর মতো নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু আলমগীরের সঙ্গে সম্পর্কটা ছিল আরও আলাদা, আরও আত্মিক। জাভেদ আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আলমগীর আমার দুধভাই। আমরা এক গ্লাসে দুধ পান করে ভাই হয়েছি। এটা শুধু কথার কথা না, জীবনের প্রতিটি বিপদে তিনি আমার পাশে ছিলেন। আমার কোনো সমস্যা হলে সবার আগে ছুটে আসতেন আলমগীর।’আরও পড়ুনকোথায় কীভাবে হলো নায়ক জাভেদের মৃত্যু, জানালেন তার স্ত্রীনায়ক জাভেদ আর নেই এই সম্পর্ক শুধু দুজন নায়কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আলমগীরের স্ত্রী, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকেও জাভেদ মনে করতেন অ

এক গ্লাসে দুধপান করে নায়ক আলমগীরের ভাই হয়েছিলেন জাভেদ

বাংলাদেশি সিনেমার নাচের বিপ্লবের কারিগর নায়ক জাভেদ আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। এই সময়ে স্মরণ করা হচ্ছে তার বলা নানা কথা, সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব আর মানবিক বন্ধনের গল্প।

নায়ক আলমগীরের সঙ্গে জাভেদের আজীবনের সম্পর্ক ছিলো। সেটা বন্ধুত্বের এবং ভাতৃত্বের।

দীর্ঘদিন সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন জাভেদ। সেইসময় চলচ্চিত্রের লোকদের সাথে খুব একটা যোগাযোগ হতো না তার। সে বিষয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, নায়করাজ রাজ্জাক যতদিন বেঁচে ছিলেন বড় ভাই ও বন্ধুর মতো নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু আলমগীরের সঙ্গে সম্পর্কটা ছিল আরও আলাদা, আরও আত্মিক।

জাভেদ আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আলমগীর আমার দুধভাই। আমরা এক গ্লাসে দুধ পান করে ভাই হয়েছি। এটা শুধু কথার কথা না, জীবনের প্রতিটি বিপদে তিনি আমার পাশে ছিলেন। আমার কোনো সমস্যা হলে সবার আগে ছুটে আসতেন আলমগীর।’

আরও পড়ুন
কোথায় কীভাবে হলো নায়ক জাভেদের মৃত্যু, জানালেন তার স্ত্রী
নায়ক জাভেদ আর নেই

এই সম্পর্ক শুধু দুজন নায়কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আলমগীরের স্ত্রী, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকেও জাভেদ মনে করতেন অত্যন্ত সজ্জন ও আপন মানুষ। শিল্পী পরিবার হিসেবে তাদের সঙ্গে জাভেদের বন্ধন ছিল পারিবারিক।

স্মৃতিচোরণে জাভেদ আরও বলেছিলেন, তার লিপে যেসব গান সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে, তার বড় অংশই গেয়েছেন প্রয়াত খুরশিদ আলম। খুরশিদ আলমের সঙ্গে তার ছিল একটি সফল জুটি। আরেকটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হয়েছিল রুনা লায়লার সঙ্গে। রুনা লায়লার কণ্ঠে গাওয়া গানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি নাচের কোরিওগ্রাফি করেছেন জাভেদ নিজেই। সেই গান ও নাচ একসময় দর্শককে মাতিয়ে রেখেছিল।

আজ জাভেদের মৃত্যুর পর এসব কথাই যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে। সহশিল্পীদের সঙ্গে তার মানবিক সম্পর্ক, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা প্রমাণ করে জাভেদ শুধু একজন নায়ক বা কোরিওগ্রাফারই ছিলেন না, ছিলেন সম্পর্ক আগলে রাখা এক বিরল মানুষ।

তাই তার মতো সজ্জন, সদালাপি, বিনয়ী, ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে শোকাহত চলচ্চিত্রের মানুষেরা। দুধভাই জাভেদকে হারিয়ে অভিনেতা আলমগীরও কি কাঁদছেন? নীরবে নিভৃতে মুছছেন চোখের জল?

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow