গভীর সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর

আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ চুক্তি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত মাছ ধরা (ওভারফিশিং) সহ বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরি হলো। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাবিশ্বে সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ অঞ্চল সুরক্ষিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা আলোচনার পর ২০২৩ সালের মার্চে চূড়ান্ত হয় এই চুক্তি যার আনুষ্ঠানিক নাম বায়োডায়ভার্সিটি বিয়োন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন (বিবিএনজে)। এই চুক্তি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত অনিয়ন্ত্রিত থাকা বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলে ‘মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া’ বা সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেবে। চুক্তি অনুযায়ী, যেসব কার্যক্রম সমুদ্রের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে সেগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। এছাড়া ‘ব্লু ইকোনমি’–এর আওতায় সামুদ্রিক জিনগত সম্পদ ব্যবহার করে যে আর্থিক লাভ হয় তা ন্যায্যভাবে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশবাদীদের মতে, নি

গভীর সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর

আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ চুক্তি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত মাছ ধরা (ওভারফিশিং) সহ বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরি হলো।

একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাবিশ্বে সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ অঞ্চল সুরক্ষিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রায় ১৫ বছর ধরে চলা আলোচনার পর ২০২৩ সালের মার্চে চূড়ান্ত হয় এই চুক্তি যার আনুষ্ঠানিক নাম বায়োডায়ভার্সিটি বিয়োন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন (বিবিএনজে)। এই চুক্তি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থিত অনিয়ন্ত্রিত থাকা বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলে ‘মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া’ বা সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ করে দেবে।

চুক্তি অনুযায়ী, যেসব কার্যক্রম সমুদ্রের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে সেগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। এছাড়া ‘ব্লু ইকোনমি’–এর আওতায় সামুদ্রিক জিনগত সম্পদ ব্যবহার করে যে আর্থিক লাভ হয় তা ন্যায্যভাবে ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রের ৩০ শতাংশ অঞ্চল আনুষ্ঠানিক সুরক্ষার আওতায় আসে।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া শিগগিরই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রশাসনের সময় চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি বিশ্বের যৌথ সম্পদ বা ‘গ্লোবাল কমন্স’ ব্যবস্থাপনায় একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানে সামুদ্রিক পরিবেশের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত ‘ডিপ সি মাইনিং’ এর মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: রয়টার্স

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow