‘এখনই এসে দুই ভাই একসঙ্গে খাবো’ বলে বেরিয়ে আর ফেরেননি সজল

২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে ঢাকার গেন্ডারিয়ার বিএনপি কর্মী সজল তার ফোনে কল পেয়ে কথা বলতে বলতে ঘর থেকে বের হন। দুপুরের খাবার প্রস্তুত করতে বলে যান নিজের মাকে। কথা ছিল, কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে বড় ভাইয়ের সঙ্গে একত্রে ভাত খাবেন। কিন্তু সজলের আর ঘরে ফেরা হয়নি। ৯ দিন পর গাজীপুরে তার লাশ পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে এমন জবানবন্দি দিয়েছেন সজলের মা ভুলু বেগম। পরে তিনি জানতে পারেন, রাজনীতি করার কারণে র‍্যাবের বড় অফিসার সজলকে তুলে নিয়ে গাজীপুরে হত্যা করেছে। এই বক্তব্য দিতে গিয়ে সাক্ষী আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ৮ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ভুলু বেগম বর্তমানে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে থাকেন। বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। তার দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম আজাদ এবং ছোট ছেলে সজল। বড় ছেলে বাসের হেল্পার, ছোট ছেলে সজল কাজ করতেন ইট-বালুর দোকানে। ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে সাক্ষী বলেন, ২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে

‘এখনই এসে দুই ভাই একসঙ্গে খাবো’ বলে বেরিয়ে আর ফেরেননি সজল

২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে ঢাকার গেন্ডারিয়ার বিএনপি কর্মী সজল তার ফোনে কল পেয়ে কথা বলতে বলতে ঘর থেকে বের হন। দুপুরের খাবার প্রস্তুত করতে বলে যান নিজের মাকে। কথা ছিল, কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে বড় ভাইয়ের সঙ্গে একত্রে ভাত খাবেন। কিন্তু সজলের আর ঘরে ফেরা হয়নি। ৯ দিন পর গাজীপুরে তার লাশ পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে এমন জবানবন্দি দিয়েছেন সজলের মা ভুলু বেগম। পরে তিনি জানতে পারেন, রাজনীতি করার কারণে র‍্যাবের বড় অফিসার সজলকে তুলে নিয়ে গাজীপুরে হত্যা করেছে। এই বক্তব্য দিতে গিয়ে সাক্ষী আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল সাক্ষ্যগ্রহণ করে। ৮ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

ভুলু বেগম বর্তমানে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে থাকেন। বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। তার দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম আজাদ এবং ছোট ছেলে সজল। বড় ছেলে বাসের হেল্পার, ছোট ছেলে সজল কাজ করতেন ইট-বালুর দোকানে।

ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে সাক্ষী বলেন, ২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে সজল বাসায় এসে ভাত খেতে চায়। একটু পরে আজাদও আসে। তারা দুজনে খাটে বসে টিভি দেখতে থাকে। আমি বলি ভাত হয়েছে, কিন্তু তরকারি হয়নি। এরপর সজলের মোবাইলে একটি ফোন এলে সে কথা বলতে বলতে বাসা থেকে বের হয়। যাওয়ার সময় আজাদ তাকে ভাত খেয়ে যেতে বলে। আমি জানালা দিয়ে সজলকে ডেকে বলি, ভাত খেয়ে যা। সজল বলে, একটু কথা বলে আসি, খাবার রেডি করো, এখনি এসে দুই ভাই একসঙ্গে খাবো। এরপর আমার সজল আর ফিরে আসেনি।

সজলের মা জানান, আসরের নামাজ পর্যন্ত ভাত নিয়ে তিনি সেদিন সজলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সজল ফিরে না আসায় তিনি এবং আজাদ তাকে খুঁজতে বের হন। হাসপাতাল ও স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে ৮/৯ দিন ধরে খুঁজতে থাকেন। খুঁজে পাওয়া যায়নি। থানা প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করেনি। এরই মধ্যে ১৩ জুলাই সজলের পরিবার খবর পায়, গাজীপুর এলাকার একটি হাসপাতালে দুটি লাশ পড়ে আছে। আজাদ গাজীপুর হাসপাতালে গিয়ে সজলের লাশ দেখতে পান। ১৪ জুলাই জুরাইন কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।ছেলে হত্যার বিচার চান সজলের মা।

পরে সাক্ষীকে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো। জেরায় সাক্ষী বলেন, আমার বিয়ের তারিখ মনে নেই। আজাদ ও সজলের জন্মের তারিখ স্মরণ নেই। ২০১১ সালে আমার স্বামী গ্রামের বাড়িতে থাকতো। সজলের দাফনের সময় আমার স্বামী উপস্থিত ছিল না। কারণ তার শ্বাসকষ্ট ছিলো। সজলকে খুঁজতে ২০১১ সালের ৫ জুলাই গেন্ডারিয়া থানায় গিয়েছিলাম। আমি জিডি করতে পারিনি। কারণ থানা থেকে আমাকে কোনো সাহায্য করেনি।

আসামিপক্ষের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আমি সাদেক হোসেন খোকার কাছে যাইনি। আমার ছেলের জানাজায় আশপাশের লোকজন এসেছিল। আমার ছেলের স্মরণে বিএনপি কোনো সভা করেছিল কি না জানি না।

আমি সজলের লাশের মুখ দেখেছি। সজলের দেহের কোথায় কোথায় ক্ষতচিহ্ন ছিল আমি দেখিনি এবং তার শরীরের কোথায় ক্ষতচিহ্ন ছিল সে সম্পর্কে কেউ আমাকে বলেনি। সজল হত্যার বিষয়ে আমরা কোনো মামলা করিনি। এটা সত্য নয় যে, আমার ছেলে সজল বিএনপি করতো না বা বিএনপির কোনো মিছিল-মিটিংয়ে যেতো না, বা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে তার কোন জানাশোনা ছিলো না বা রাজনীতি করার কারণে র‍্যাব তাকে হত্যা করেনি।

এফএইচ/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow