গৃহযুদ্ধের সূচনাকারী হ্লাইংই হচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জেনারেল মিন অং হ্লাইং অবশেষে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর নতুন সংসদ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে।   মিয়ানমারে অং সান সূচির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর মিন অং লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজন করে এক বছরের মধ্যে বেসামরিক শাসনে ফিরে যাবে দেশটি। তবে নির্বাচনের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর।   সংবিধান অনুযায়ী মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি নামমাত্র বেসামরিক শাসন। কারণ নতুন সংসদে তার অনুগতদের আধিপত্য রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত আসনও বহাল রয়েছে। তিনি নতুন একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন। এই পরিষদের কাছে বেসামরিক ও সামরিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে। এক কথায় বলা যায়, সামরিক পোশাক খুললেও ক্ষমতা যেন না কমে সে বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন মিন অং হ্লাইং। মিয়ানমারে গত নির্বাচনে অং সান সূচির দল বড় জয় পাওয়ার পরই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা

গৃহযুদ্ধের সূচনাকারী হ্লাইংই হচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট
মিয়ানমারের সেনাপ্রধান হিসেবে ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জেনারেল মিন অং হ্লাইং অবশেষে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর নতুন সংসদ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে।   মিয়ানমারে অং সান সূচির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর মিন অং লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজন করে এক বছরের মধ্যে বেসামরিক শাসনে ফিরে যাবে দেশটি। তবে নির্বাচনের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর।   সংবিধান অনুযায়ী মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি নামমাত্র বেসামরিক শাসন। কারণ নতুন সংসদে তার অনুগতদের আধিপত্য রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত আসনও বহাল রয়েছে। তিনি নতুন একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন। এই পরিষদের কাছে বেসামরিক ও সামরিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে। এক কথায় বলা যায়, সামরিক পোশাক খুললেও ক্ষমতা যেন না কমে সে বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন মিন অং হ্লাইং। মিয়ানমারে গত নির্বাচনে অং সান সূচির দল বড় জয় পাওয়ার পরই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ব্যবহার করলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দেশটিদে গত পাঁচ বছরে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়াও ভেঙ্গে পড়েছে দেশটির অর্থনীতিও। বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে এখনো দেশের বড় অংশ রয়েছে। তাদের দমনে সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। কিয়াও উইনের মতো তরুণ আন্দোলনকর্মীদের জন্য পরিবর্তনের সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ছাত্রাবস্থায় ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলে পাঠানোর আগে এক সপ্তাহ ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, তারা লোহার রড দিয়ে আমার পিঠে মেরেছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে, ছুরি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করেছে। তারপর তারা আমার অন্তর্বাস খুলে নিয়ে আমাকে যৌন নির্যাতন করেছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তারা যে আমার কাছ থেকে কী শুনতে চায় তা কখনোই স্পষ্ট ছিল না। কিয়াও উইন বলেন, বিপ্লবের প্রতি তার অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মিয়ানমারের ভেতর থেকে এখন তিনি খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না। তিনি দেশের বাইরে কাজ খোঁজার কথা ভাবছেন। মিন অং হ্লাইং নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে, যা তার সামরিক প্রভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেবে, বর্তমানে দেশটিতে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনে রয়েছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow