এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জুমার নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন অহত হন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ সাঁথিয়া আসনের জামায়াতের ইসলামীর বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। কিন্তু সেদিন বিএনপি কর্মী সমর্থকদের আপত্তির মুখে সম্ভব হয়নি।  তারা জানান, আজ শুক্রবার পুনরায় তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী সমর্থকরা বাধা দেন। এসময় মসজিদের ভেতরেই সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সামনে জামায়াত-শিবিরকর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্ব থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্

এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি
পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় জুমার নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন অহত হন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ সাঁথিয়া আসনের জামায়াতের ইসলামীর বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যান। কিন্তু সেদিন বিএনপি কর্মী সমর্থকদের আপত্তির মুখে সম্ভব হয়নি।  তারা জানান, আজ শুক্রবার পুনরায় তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী সমর্থকরা বাধা দেন। এসময় মসজিদের ভেতরেই সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সামনে জামায়াত-শিবিরকর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্ব থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের নেতৃত্বে জুমার নামাজ শেষ হয়। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম জানান, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারে (১৭ জুলাই) নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারে না। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিল। তিনি ইমাম সাহেবের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য, খুতবা ও নামাজ পড়ানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা আপত্তি করে। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা হট্টগোল শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করলে ওই মসজিদের ইমামকে দিয়েই নামাজ পড়ানো হয়।  অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, এমপি সাহেব নিজে ইচ্ছা করে আজকে সাঁথিয়া সদর থেকে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীদের নিয়ে জুমার নামাজ পড়াতে যান। এ ঘটনায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাতকে (২২) বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়েছে।  সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের (ভারপ্রাপ্ত) আমির সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় পৌর জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করে মসজিদ কমিটির অনুমতি নিয়ে আজ আফতাব নগর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়ানোর কথা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপির। মসজিদে উপস্থিত হয়ে তিনি মুসুল্লিদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের পর বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি যখন খুতবা দিতে ছিলেন, তখন বিএনপির কিছু লোকজন মসজিদে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করবে বলে যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছে। গোপীনাথপুরের বাসিন্দা পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুল করিম ও সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মীদের তারা নিয়ে এসে এই ঝামেলাটি করে। আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করে। নামাজ পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধরও করেছে। এঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কাজনক সংবাদ ছিলো পুলিশের কাছে। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। এরপরও নামাজের আগ মুহুর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। মারধর বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow