এলাকার সমস্যা শুনতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে এমপি

নদীভাঙন, ভাঙা সড়ক আর অবহেলিত জনপদের বাস্তবতা দেখতে গ্রামে গ্রামে ছুটছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগে কালকিনি ও ডাসারের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।  জনপ্রতিনিধিদের চারপাশে সাধারণত যে দূরত্ব কিংবা আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল তৈরি হয়, সেটি ভেঙে তিনি সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। কালকিনি ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, চরাঞ্চল এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো ঘুরে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও স্কুল মাঠে গণআলোচনা, আবার কোথাও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তবতা দেখছেন নিজ চোখে। মাদারীপুর-৩ আসনের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নদীবিধৌত অঞ্চলগুলোতে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এখনো নাজুক। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রামের মানুষকে কাদা ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গ্রাম। এ ছাড়া আড়িয়াল খা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর

এলাকার সমস্যা শুনতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে এমপি
নদীভাঙন, ভাঙা সড়ক আর অবহেলিত জনপদের বাস্তবতা দেখতে গ্রামে গ্রামে ছুটছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগে কালকিনি ও ডাসারের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।  জনপ্রতিনিধিদের চারপাশে সাধারণত যে দূরত্ব কিংবা আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল তৈরি হয়, সেটি ভেঙে তিনি সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন। কালকিনি ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, চরাঞ্চল এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো ঘুরে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও স্কুল মাঠে গণআলোচনা, আবার কোথাও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তবতা দেখছেন নিজ চোখে। মাদারীপুর-৩ আসনের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নদীবিধৌত অঞ্চলগুলোতে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এখনো নাজুক। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রামের মানুষকে কাদা ও ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গ্রাম। এ ছাড়া আড়িয়াল খা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন সংস্কার, নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ, এসব দাবি দীর্ঘদিনের। এসব বাস্তবতা সামনে রেখে সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাঠপর্যায়ে সরাসরি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি কয়েকটি ইউনিয়নে গণশুনানি ও মতবিনিময় সভা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে খোলামেলাভাবে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরছেন। কেউ রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন, কেউ স্কুল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা বলছেন, আবার কেউ নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান এমপি নিজেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কথা শুনছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরাসরি মানুষের মতামত নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে প্রকৃত সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার পাবে। এ বিষয়ে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কাছে যেতে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সংসদ সদস্যদের নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। অনেকেই সরাসরি গিয়ে নিজের সমস্যা বলতে সংকোচবোধ করেন। আবার অনেক সমস্যাই স্থানীয়ভাবে বছরের পর বছর অবহেলিত থাকে। তাই আমি নিজেই মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদের কথা শুনছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলার অনেক স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনের সংস্কার প্রয়োজন। কোথাও নতুন ভবন দরকার। অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আড়িয়াল খা নদী তীরবর্তী বড় একটি এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যা সরেজমিনে দেখে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চাই।’ মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে সরাসরি জনগণের সঙ্গে বসে সমস্যার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাকি ইউনিয়নগুলোর কাজও শেষ হবে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব বরাদ্দ এসেছে, তা দিয়ে বেশি সমস্যাপূর্ণ কিছু এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, কাজের তুলনায় বরাদ্দ খুবই সীমিত। তাই মাঠপর্যায়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বাড়তি বাজেটের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণে সমস্যা চিহ্নিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কালকিনি-ডাসারের দীর্ঘদিনের অবহেলিত অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।  বিশেষ করে নদীভাঙন, সড়ক যোগাযোগ এবং শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow