এসএমই, বিদেশি বিনিয়োগ ও বন্ড বাজারে কর প্রণোদনার সুপারিশ ডিএসইর

দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রস্তাবগুলোতে বন্ড বাজার উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, এসএমই খাতকে প্রণোদনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছাড়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাকবাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের আয়ের ওপর করনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বন্ডে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য করপোরেট বন্ডে ১০ শতাংশ উৎস করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে উঠবে এবং সরকারের সুদ ব্যয় কমবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে অ-নিবাসীদের মূলধন

এসএমই, বিদেশি বিনিয়োগ ও বন্ড বাজারে কর প্রণোদনার সুপারিশ ডিএসইর

দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রস্তাবগুলোতে বন্ড বাজার উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, এসএমই খাতকে প্রণোদনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছাড়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাকবাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের আয়ের ওপর করনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বন্ডে পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য করপোরেট বন্ডে ১০ শতাংশ উৎস করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে উঠবে এবং সরকারের সুদ ব্যয় কমবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে অ-নিবাসীদের মূলধনী মুনাফার ওপর কর পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম- মোট লেনদেনের মাত্র ১.৫৭ শতাংশ। কর সুবিধা দিলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়বে, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ জোরদার হবে বলে মনে করছে ডিএসই।

এসএমই খাতকে উৎসাহ দিতে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিএসই। বর্তমানে এসব কোম্পানিকে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে করভিত্তি সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট সার্টিফিকেট ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ডিএসই। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়ে পুঁজিবাজারে অংশ নিতে উৎসাহিত হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।

ডিএসই আরও প্রস্তাব করেছে, ব্যবসায়িক ক্ষতি অন্যান্য আয়ের বিপরীতে সমন্বয়ের সুযোগ পুনর্বহাল করতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং ভবিষ্যতে করদাতা হিসেবে টিকে থাকবে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত শেয়ারে মূলধনী মুনাফার ওপর করহার কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত রাখার পাশাপাশি এর বেশি অংশে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই করহার ১৫ শতাংশ।

এছাড়া লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ডিএসইর মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের কর জটিলতা কমবে এবং লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে।

ডিএসইর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কর নীতির সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমএএস/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow