কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত প্রাণঘাতী, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের জন্য কঠোর নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয় এবং এ দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত যন্ত্রপাতি ছাড়াই প্যারাসেলিং পরিচালিত হচ্ছে। এতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসন

কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত প্রাণঘাতী, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ প্যারাসেইলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের জন্য কঠোর নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয় এবং এ দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত যন্ত্রপাতি ছাড়াই প্যারাসেলিং পরিচালিত হচ্ছে। এতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটক ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি তাদের অগোচরে ঘটেছে। তবে নোটিশে বলা হয়, প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলতে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ এবং এতে ভবিষ্যৎ পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। লিগ্যাল নোটিশে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কক্সবাজারে পরিচালিত সব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিরাপত্তা মান যাচাই, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করা, নিহত পর্যটকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দরিয়ানগরের ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্যারাসেইলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশিকা (স্ট্যান্ডার্ড সেফটি গাইডলাইন) ও একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো (রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী নিশাত ফারজানা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow