কাঁঠাল পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে শিশুকে হত্যা, ৩ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কাঁঠাল পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে সাত বছরের শিশু সুমনকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের দায়ে প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুরিয়া পাড়া গ্রামের আবুল কাশেম, মুকাদ্দেস ও স্বপন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাগুরিয়া পাড়া এলাকায় কাঁঠাল গাছের পাতা কুড়ানো নিয়ে প্রতিবেশী সবুজা বেগমের সঙ্গে আসামিদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সবুজা বেগমকে মারধর শুরু করলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার দেবর বাবুল মিয়া। তখন আসামিরা বাবুল মিয়াকেও বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনার দিন দুপুর থেকেই বাবুল মিয়ার সাত বছর বয়সী ছেলে সুমন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন (৪ সেপ্টেম্বর) সরি

কাঁঠাল পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে শিশুকে হত্যা, ৩ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কাঁঠাল পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে সাত বছরের শিশু সুমনকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের দায়ে প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুরিয়া পাড়া গ্রামের আবুল কাশেম, মুকাদ্দেস ও স্বপন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাগুরিয়া পাড়া এলাকায় কাঁঠাল গাছের পাতা কুড়ানো নিয়ে প্রতিবেশী সবুজা বেগমের সঙ্গে আসামিদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সবুজা বেগমকে মারধর শুরু করলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার দেবর বাবুল মিয়া। তখন আসামিরা বাবুল মিয়াকেও বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ঘটনার দিন দুপুর থেকেই বাবুল মিয়ার সাত বছর বয়সী ছেলে সুমন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন (৪ সেপ্টেম্বর) সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পরদিন, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে চাপারকোনা বাজার সংলগ্ন ঝিনাই নদী থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আলামত গোপন করার অপরাধে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow