কুষ্ঠ রোগ এখন আর আজীবনের অভিশাপ নয়
কুষ্ঠ রোগ - নাম শুনলেই ভয়, লজ্জা আর আজীবনের অভিশাপ - এই তিনটি শব্দই আমাদের মনে আগে আসে। কুষ্ঠ রোগ মানেই যেন সমাজচ্যুত জীবন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, কুষ্ঠ রোগ এখন আর আজীবনের অভিশাপ নয়। সময়মতো ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ পুরোপুরি সেরে যায়। এমনকি রোগী স্বাভাবিক জীবনেও ফিরতে পারেন। আজ (২৫ জানুয়ারি) বিশ্ব কুষ্ঠ দিবসে আপনিও এ রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসুন। একসময় কুষ্ঠকে মনে করা হতো ভয়ংকর ও দুরারোগ্য। শরীরের দাগ, অসাড়তা, হাত-পা বিকল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য মানুষকে আতঙ্কিত করত। সেই ভয় থেকেই তৈরি হয়েছে সামাজিক দূরত্ব, অবহেলা আর অমানবিক আচরণ। এমনকি অনেকে রোগীকে ঘৃণার চোখেও দেখেন! অথচ আধুনিক চিকিৎসা বলছে -এই ধারণাগুলোর বেশির ভাগই এখন পুরোনো। কুষ্ঠ কেন হয়? কুষ্ঠ রোগের কারণ হলো মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রে নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এটি মূলত ত্বক ও স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। শুরুতে লক্ষণ খুবই সাধারণ - ত্বকে হালকা রঙের দাগ, সেই জায়গায় কম অনুভূতি, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তা। অনেকেই এসবকে সাধারণ চর্মরোগ ভেবে গুরুত্ব দেন না। সমস্যাটা এখানেই। দেরি হলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন হাত-পা দুর্বল
কুষ্ঠ রোগ - নাম শুনলেই ভয়, লজ্জা আর আজীবনের অভিশাপ - এই তিনটি শব্দই আমাদের মনে আগে আসে। কুষ্ঠ রোগ মানেই যেন সমাজচ্যুত জীবন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাস্তবতা বলছে, কুষ্ঠ রোগ এখন আর আজীবনের অভিশাপ নয়।
সময়মতো ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ পুরোপুরি সেরে যায়। এমনকি রোগী স্বাভাবিক জীবনেও ফিরতে পারেন। আজ (২৫ জানুয়ারি) বিশ্ব কুষ্ঠ দিবসে আপনিও এ রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসুন।
একসময় কুষ্ঠকে মনে করা হতো ভয়ংকর ও দুরারোগ্য। শরীরের দাগ, অসাড়তা, হাত-পা বিকল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য মানুষকে আতঙ্কিত করত। সেই ভয় থেকেই তৈরি হয়েছে সামাজিক দূরত্ব, অবহেলা আর অমানবিক আচরণ। এমনকি অনেকে রোগীকে ঘৃণার চোখেও দেখেন! অথচ আধুনিক চিকিৎসা বলছে -এই ধারণাগুলোর বেশির ভাগই এখন পুরোনো।
কুষ্ঠ কেন হয়?
কুষ্ঠ রোগের কারণ হলো মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রে নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এটি মূলত ত্বক ও স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। শুরুতে লক্ষণ খুবই সাধারণ - ত্বকে হালকা রঙের দাগ, সেই জায়গায় কম অনুভূতি, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তা। অনেকেই এসবকে সাধারণ চর্মরোগ ভেবে গুরুত্ব দেন না। সমস্যাটা এখানেই। দেরি হলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন হাত-পা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ভালো খবরও আছে
ভালো খবর হলো, এখন কুষ্ঠের চিকিৎসা সহজ, কার্যকর এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা মাল্টিড্রাগ থেরাপি (এমডিটি) কুষ্ঠ চিকিৎসার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। নির্দিষ্ট সময় - ছয় মাস থেকে এক বছর - নিয়ম মেনে ওষুধ খেলেই রোগ পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরপরই রোগী সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতাও হারান। অর্থাৎ, একই ঘরে থাকা, হাত মেলানো বা একসঙ্গে খাওয়ায় কোনো ঝুঁকি থাকে না।
বাংলাদেশে চিকিৎসা কেমন? খরচ কতো?
বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে কুষ্ঠ রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবু ভয় আর লজ্জার কারণে অনেকেই চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এখানে সমস্যা চিকিৎসা সক্ষমতায় নয়, সমস্যা সচেতনতার অভাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠ রোগ এখন শারীরিক সমস্যার চেয়ে সামাজিক সমস্যাই বেশি। রোগ ধরা পড়লে চাকরি হারানোর ভয়, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বা পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখনো ঘটে। অথচ বাস্তবতা হলো - কুষ্ঠ কোনো অভিশাপ নয়, এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, ঠিক যেমন যক্ষ্মা। যক্ষ্মা হলে যেমন চিকিৎসা নিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরে, কুষ্ঠেও তাই সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুদের মধ্যে কুষ্ঠ শনাক্ত হওয়া। এতে বোঝা যায়, সমাজে এখনো রোগটি নীরবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই শুধু রোগী নয়, পুরো পরিবার ও কমিউনিটির সচেতনতা জরুরি।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল লেপ্রসি ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম বাংলাদেশ, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন
এএমপি/এমএস
What's Your Reaction?