কুড়িগ্রামে বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং নাজিমখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে এভাবে হাট বসানোর ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত সপ্তাহ থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে এই পশুর হাট বসানো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হাট ইজারাদার, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি ছাড়াই মাঠে পশুর হাট পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরু, মহিষসহ নানা ধরনের পশুর কেনাবেচা চলছে। ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপচে পড়া ভিড়ে মাঠটিতে পুরোদস্তুর একটি হাটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাঠের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য নির্ধারিত একটি পবিত্র স্থান। সেখানে পশুর হাট বসান
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং নাজিমখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে এভাবে হাট বসানোর ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত সপ্তাহ থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে এই পশুর হাট বসানো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হাট ইজারাদার, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি ছাড়াই মাঠে পশুর হাট পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরু, মহিষসহ নানা ধরনের পশুর কেনাবেচা চলছে। ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপচে পড়া ভিড়ে মাঠটিতে পুরোদস্তুর একটি হাটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাঠের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য নির্ধারিত একটি পবিত্র স্থান। সেখানে পশুর হাট বসানো কোনোভাবেই শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার বাদশা বকসি বলেন, ‘বহু বছর ধরেই এখানে এমনটি হয়ে আসছে। হাট শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবো, এর আগে কিছু বলার নেই।’
অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজিমখান উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক গোলাম ফারুক বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে মাঠ ব্যবহার বা হাট বসানোর জন্য ইজারাদার আমার কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেননি।’
অন্যদিকে নাজিমখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই এখানে পশুর হাট বসে আসছে। এ বিষয়টি মূলত হাই স্কুল কর্তৃপক্ষই দেখভাল করে থাকে।’
সার্বিক বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘আমি বিষয়টি আগে সরেজমিনে দেখবো এবং বিস্তারিত জেনে তারপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কথা বলবো।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মনে এখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমতি না-ই থাকে, তবে কার ইশারায় বা সিদ্ধান্তে এই হাট পরিচালিত হচ্ছে? আর এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে—এমনই প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সচেতন মহল।
What's Your Reaction?