‘কৃষকের অ্যাপ’ কি জানেন না চাষিরা
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এবার ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক কৃষক এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাননি। কেউ জানেন না কীভাবে আবেদন করতে হবে, আবার কেউ ‘ধান কেনার অ্যাপ’ বলতে কী বোঝায়, সেটিই বুঝে উঠতে পারছেন না। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলা উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০৮ টন ইরি-বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান কিনবে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে। ‘কৃষকের অ্যাপ’-এ নিবন্ধন ও আবেদন গ্রহণ চলবে ২০ মে পর্যন্ত। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে কৃষকদের ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অনিয়ম ঠেকাতে ২০১৯ সালে এই অ্যাপ চালু করে খাদ্য বিভাগ। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে আট বিভাগের ১৬টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দেশের ৩০৪টি উপজেলায় চালু করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসা
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এবার ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক কৃষক এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাননি। কেউ জানেন না কীভাবে আবেদন করতে হবে, আবার কেউ ‘ধান কেনার অ্যাপ’ বলতে কী বোঝায়, সেটিই বুঝে উঠতে পারছেন না।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলা উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০৮ টন ইরি-বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান কিনবে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৫ মে থেকে। ‘কৃষকের অ্যাপ’-এ নিবন্ধন ও আবেদন গ্রহণ চলবে ২০ মে পর্যন্ত। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে কৃষকদের ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অনিয়ম ঠেকাতে ২০১৯ সালে এই অ্যাপ চালু করে খাদ্য বিভাগ। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে আট বিভাগের ১৬টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে দেশের ৩০৪টি উপজেলায় চালু করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে খাদ্য বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাপভিত্তিক এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করা। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা সহজেই সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারী কৃষকের জমির তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কৃষকদের সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে হবে। তবে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে এখনও অনেক কৃষক এ বিষয়ে অবগত নন।
নাউতারা আকাশকুড়ি গ্রামের কৃষক ওমর আলী মুন্সি বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিড-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছি। সরকার অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনবে, এমন কথা আগে শুনিনি। অ্যাপে ধান কেনা মানে কী, সেটাই বুঝি না।’
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কলোনিপাড়া গ্রামের কৃষক হযরত আলী বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে শুনেছি সরকার অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনবে। কিন্তু এই অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানি না।’
চরখড়িবাড়ী এলাকার কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই জানি না।’
কিছু কৃষক ইতোমধ্যে অ্যাপ ব্যবহার করে আবেদন করেছেন। খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাগলপাড়া গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ‘আমার স্মার্টফোন আছে। নিজের ফোন থেকেই আবেদন করেছি। আমার ফোন ব্যবহার করে আরও ১০ জন কৃষক আবেদন করেছেন।’
গয়াবাড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহজান আলী বলেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনার বিষয়টি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও কৃষক প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। তথ্যকেন্দ্রগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের নিবন্ধনে সহায়তা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কৃষক এখনও অ্যাপ সম্পর্কে জানেন না, এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য কমবে।’
ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা হবে। আবেদন গ্রহণের পর কৃষি বিভাগ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করবে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, কৃষকদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, ‘আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উন্মুক্ত লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। পরে নির্বাচিত কৃষকদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ধান সরবরাহের তারিখ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানানো হবে। ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্র, অনলাইন সেবাকেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও কৃষকরা আবেদন করতে পারবেন।
What's Your Reaction?