আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমা ভোজিনহার পরিবারের ৪ সদস্যকে ভিআইপি টিকিট উপহার দিয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে ভোজিনহার পরিবারের পক্ষে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেসি সম্পূর্ণ নিজের খরচে তাদের জন্য এই বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করেন। শুধু তাই নয়, কেপ ভার্দে থেকে ফাইনালের ভেন্যুতে আসার জন্য তাদের ভ্রমণের যাবতীয় খরচও বহন করেছেন তিনি।
পরে তারা গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল উপভোগ করেন। সেই ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জয়ী হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যকে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার জন্য বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই কেপ ভার্দে দারুণ লড়াই উপহার দেয়। গ্রুপ পর্বে তারা ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং পরে ২০২৬ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে অপরাজিত থাকে। একইভাবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও হারেনি দলটি।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি ১১১ মিনিট পর্যন্ত ২-২ সমতায় ছিল। পরে একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
পুরো টুর্নামেন্টে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা মোট ১৮টি সেভ করেন। বিশ্বকাপের এক আসরে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে এর চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) এবং ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সালে ২৭টি)।
চিলির সংবাদমাধ্যম লা তের্সেরার বরাতে গোল ডটকম জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে ভোজিনহা নিজেই মেসির সঙ্গে হওয়া আবেগঘন মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন।
ভোজিনহা বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আলিঙ্গন করে বললেন, ‘তুমি অসাধারণ। তোমাকে নিয়ে তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত।’ আমার জন্য এটি ছিল অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত। লিওনেল মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’
তিনি আরও জানান, সেই সাক্ষাতের স্মৃতি হিসেবে মেসির জার্সি চেয়েছিলেন তিনি। ভোজিনহার ভাষায়, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলাম, ধন্যবাদ, লিও। তুমি সেরা। এরপর আমি তাকে জার্সি বদল করার অনুরোধ করি। তখন লিও বলেছিলেন, সাক্ষাৎকার শেষ করে টানেলে তিনি আমাকে তার জার্সি দেবেন।’
এদিকে, আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের বরাতে আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে এমন কয়েকজনের জন্য মেসি নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন, যাদের পক্ষে ম্যাচের টিকিট কেনা সম্ভব ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যও ছিলেন। মেসি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন, যাতে তারা বিনামূল্যে ফাইনালের টিকিট পান।