কোন সময় ব্যায়াম করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ সন্ধ্যা বা রাতে শরীরচর্চা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউ হাঁটা বা দৌড়ানোকে প্রাধান্য দেন, কেউ সাঁতার কাটেন, আবার কেউ নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন। তবে ব্যায়ামের সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত সময় না থাকলেও, সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে তা শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লকের সঙ্গে মিল রেখে করা উচিত। বডি ক্লক অনুযায়ী ব্যায়ামের গুরুত্ব মানুষের শরীরে একটি স্বাভাবিক সময়চক্র কাজ করে, যাকে বলা হয় বডি ক্লক বা ক্রোনোটাইপ। এই অনুযায়ী কেউ ভোরে বেশি সক্রিয় থাকেন আবার কেউ রাতে বেশি কর্মক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সকালে সতেজ থাকেন, তাদের জন্য সকালে ব্যায়াম করাই বেশি কার্যকর। অন্যদিকে যারা রাতে বেশি সক্রিয়, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করাই উপকারী। গবেষণায় যা জানা গেছে ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখিা গেছে শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদে

কোন সময় ব্যায়াম করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন, আবার কেউ কেউ সন্ধ্যা বা রাতে শরীরচর্চা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউ হাঁটা বা দৌড়ানোকে প্রাধান্য দেন, কেউ সাঁতার কাটেন, আবার কেউ নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন। তবে ব্যায়ামের সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত সময় না থাকলেও, সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে তা শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লকের সঙ্গে মিল রেখে করা উচিত।

বডি ক্লক অনুযায়ী ব্যায়ামের গুরুত্ব

মানুষের শরীরে একটি স্বাভাবিক সময়চক্র কাজ করে, যাকে বলা হয় বডি ক্লক বা ক্রোনোটাইপ। এই অনুযায়ী কেউ ভোরে বেশি সক্রিয় থাকেন আবার কেউ রাতে বেশি কর্মক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সকালে সতেজ থাকেন, তাদের জন্য সকালে ব্যায়াম করাই বেশি কার্যকর। অন্যদিকে যারা রাতে বেশি সক্রিয়, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করাই উপকারী।

গবেষণায় যা জানা গেছে

ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখিা গেছে শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য এটি আরও কার্যকর।

এই গবেষণায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের অনেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন করে প্রতিদিন ৪০ মিনিট ট্রেডমিলে দ্রুত হাঁটার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এটি তিন মাস ধরে চলতে থাকে।

jago

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ছিলেন মর্নিং লার্ক এবং বাকিরা নাইট আউল। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ নিজের স্বাভাবিক সময় অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, আবার কেউ উল্টা সময়ে ব্যায়াম করেছেন। ফলাফল বলছে, দুটি দলই উপকার পেয়েছেন, তবে যারা নিজেদের বডি ক্লক অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা বেশি উন্নতি লক্ষ্য করেছেন।

বিশেষ করে তাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, শরীরের নমনীয়তা বেড়েছে, অ্যারোবিক সক্ষমতা উন্নত হয়েছে এবং ঘুমের মানও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে ছিল।

কেন বডি ক্লক এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি শুধু ঘুমের সময়সূচিই নিয়ন্ত্রণ করে না, এটি হরমোনের ভারসাম্য, শক্তির মাত্রা এবং বিপাকক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। ফলে এই প্রাকৃতিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে শরীর সহজে তা গ্রহণ করতে পারে এবং উপকারও বেশি পাওয়া যায়।

‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ নয়

সব মানুষের জন্য একই সময়ে ব্যায়াম করা আদর্শ নয়। অনেক সময় ব্যক্তিগত সময়সূচি ও শরীরের স্বাভাবিক রুটিনের মধ্যে অমিল তৈরি হয়, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেটল্যাগ। এটি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যারা রাতে বেশি সক্রিয়, তাদের জোর করে সকালে ব্যায়াম করানো ঠিক নয়।

এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস এর সদস্য ড. রাজিভ শঙ্করাণারায়ণ মনে করেন, বডি ক্লক অনুযায়ী ব্যায়ামের গুরুত্ব এই গবেষণায় স্পষ্ট হলেও বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নিনা জেকরজেক জানান, ব্যায়ামের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিয়মিত ব্যায়াম করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

jago

কতটুকু ব্যায়াম করা উচিত

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এন এইচ এস) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো হলো-

সপ্তাহে অন্তত দুইদিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম (যেমন ইয়োগা, পিলাটিস, ভারোত্তলোন) করা।

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম (যেমন ব্রিস্কওয়াক) বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম (যেমন দৌড়) চর্চা করা।

সপ্তাহজুড়ে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করা বা প্রতিদিনই ব্যায়াম করা।

গেছে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমানো।

ব্যায়ামের সঠিক সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং নিজের শরীরকে বোঝার চেষ্টা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সকালে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে সকালে ব্যায়াম করুন, আর সন্ধ্যায় শক্তি বেশি পেলে তখনই শরীরচর্চা করুন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow