কোরিয়াকে উড়িয়ে ফাইনালে জাপান

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দূরন্ত যাত্রা অব্যাহত রেখেছে জাপান। দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে জাপান। এটি হতে যাচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালের রি-ম্যাচ। দুই বার এশিয়ার সেরা হওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপান। ২০১৮ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে জাপানের প্রথম মেজর ফাইনাল। সিডনিতে নিলস নিলসেনের দল পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল অনবদ্য। দুই অর্ধে দুটি করে গোল করে তারা সপ্তমবারের মতো মহাদেশীয় ফাইনাল নিশ্চিত করল। কোরিয়া রিপাবলিক কোচ শিন সাং-উউ উজবেকিস্তানকে ৬–০ গোলে হারানো দলে চার পরিবর্তন করেন, আক্রমণভাগে ফিরিয়ে আনেন জিওন ইউ–গিয়ংকে। অন্যদিকে নিলসেন ফিরিয়ে আনেন তার মূল খেলোয়াড়দের—ফিলিপাইন্সকে ৭–০ গোলে হারানো ম্যাচে যারা বিশ্রামে ছিলেন। গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতা, সেন্টার–ব্যাক সাকি কুমাগাই এবং আসরের এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা রিকো উয়েকি ছিলেন সাত পরিবর্তনের মধ্যে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাপান। সপ্তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি হয়—মাইকা হামানোর ব্যাকহিল থেকে হিনাতা

কোরিয়াকে উড়িয়ে ফাইনালে জাপান
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দূরন্ত যাত্রা অব্যাহত রেখেছে জাপান। দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে জাপান। এটি হতে যাচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালের রি-ম্যাচ। দুই বার এশিয়ার সেরা হওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়াকেই হারিয়েছিল ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপান। ২০১৮ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে জাপানের প্রথম মেজর ফাইনাল। সিডনিতে নিলস নিলসেনের দল পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল অনবদ্য। দুই অর্ধে দুটি করে গোল করে তারা সপ্তমবারের মতো মহাদেশীয় ফাইনাল নিশ্চিত করল। কোরিয়া রিপাবলিক কোচ শিন সাং-উউ উজবেকিস্তানকে ৬–০ গোলে হারানো দলে চার পরিবর্তন করেন, আক্রমণভাগে ফিরিয়ে আনেন জিওন ইউ–গিয়ংকে। অন্যদিকে নিলসেন ফিরিয়ে আনেন তার মূল খেলোয়াড়দের—ফিলিপাইন্সকে ৭–০ গোলে হারানো ম্যাচে যারা বিশ্রামে ছিলেন। গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতা, সেন্টার–ব্যাক সাকি কুমাগাই এবং আসরের এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা রিকো উয়েকি ছিলেন সাত পরিবর্তনের মধ্যে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাপান। সপ্তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি হয়—মাইকা হামানোর ব্যাকহিল থেকে হিনাতা মিয়াজাওয়া বল বাড়ান হানা তাকাহাশিকে, যার শট ফিরিয়ে দেন কিম মিন–জুং। ফিরতি প্রচেষ্টায় ইউই হাসেগাওয়া সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এটা ছিল গোলের আগমনী বার্তা। ১৫তম মিনিটে জাপান এগিয়ে যায়। হাই-প্রেসিংয়ে কিম শিন–জিকে ভুল করতে বাধ্য করে ফুকা নাগানো বল কাড়েন এবং বক্সে উয়েকির সামনে বাড়িয়ে দেন। উয়েকি সহজেই আসরে নিজের ষষ্ঠ গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন (১-০)। চার মিনিট পর কোরিয়া রিপাবলিকের বিরল এক আক্রমণে সমতার সুযোগ পান পার্ক সু–জিয়ং, তার শট পোস্টের বাইরে যায়। অন্যদিকে ফুজিনো দারুণ ড্রিবলিংয়ে জায়গা তৈরি করেও শট উড়িয়ে মারেন। ২৫তম মিনিটে আসে ম্যাচের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি—হামানো কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে তীক্ষ্ণ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালে জাপানের লিড দ্বিগুণ হয় (২-০)। চার মিনিট পর আবারও বল জড়ায় কোরিয়ার জালে—চাপের মুখে জাং সেল–গি ভুলবশত নিজ জালে হেড করেন। বল জালে যাওয়ার আগের ধাক্কার গোলরক্ষক মিন–জুংয়ের ওপর করা ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয়। ৪৩তম মিনিটে ফুজিনোর গোলও বাতিল হয় হিকারু কিতাগাওয়ার হ্যান্ডবলের কারণে। বিরতির ঠিক আগে সু–জিয়ং আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। জাপান স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েই বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোরিয়া আক্রমণ বাড়াতে নামায় উইঙ্গার ক্যাং চে–রিমকে। কিন্তু গোলের কাছাকাছি যায় জাপানই। উয়েকি–নাগানোর দারুণ সমন্বয়ে নাগানো বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু বল যায় বাইরে। ৬৩তম মিনিটে হামানোর কর্নার থেকে উয়েকির হেড বার কাঁপায়। ৭৫তম মিনিটে আসে জাপানের তৃতীয় গোল। মিন–জুং কর্নার ক্লিয়ার করতে লাফিয়ে বল ধরতে গিয়ে ভুল বিচার করেন, আর সাকি কুমাগাই অনায়াসে হেডে গোল করেন (৩-০)। তিন মিনিট পর কোরিয়া রিপাবলিক একটি গোল শোধ দেয়—সো–জিয়ংয়ের পাস থেকে চে–রিম দুর্দান্ত টার্ন নিয়ে নিচু শটে গোল করেন (৩-১)। আসরে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মত জাপান কোন গোল হজম করল। ৮১তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জাপান আবারও ব্যবধান বাড়ায়। বদলি খেলোয়াড় রেমিনা চিবা নিচু শটে মিন–জুংকে পরাস্ত করে দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে তুলে দেন (৪-১)।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow