গাড়ি নিয়ে কী বলেছিলেন হাসনাত, আসলে কী কী সুবিধা পান এমপিরা
সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে গাড়ি সুবিধা চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এই দাবি জানান। তার এই বক্তব্যের পর অনেকে নির্বাচনের আগে হাসনাতের ‘ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেব না’ বক্তব্যের ফুটেজ শেয়ার করে সমালোচনা করছেন। এর বিপরীতে অনেকে বলছেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি না নেওয়া আর সরকারের কাছ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মতো দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ির সুবিধা নেওয়া ভিন্ন বিষয়। সংসদ সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে গাড়ি বরাদ্দ না পেলেও মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য পান আলাদা ভাতা ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা পান। এছাড়া অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান তারা। দেবিদ্বার পৌরসভার মরিচাকান্দা এলাকায় ২৫ জানুয়ারির নির্বাচনি উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ, ফাইল ছবি আগে কী বলেছিলেন হাসনাত নির্বাচনের আগে গত ২৫ জানুয়ারি এনসিপি মুখ্য সংগঠক (দ
সংসদ সদস্য হিসেবে মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে গাড়ি সুবিধা চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এই দাবি জানান।
তার এই বক্তব্যের পর অনেকে নির্বাচনের আগে হাসনাতের ‘ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেব না’ বক্তব্যের ফুটেজ শেয়ার করে সমালোচনা করছেন। এর বিপরীতে অনেকে বলছেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি না নেওয়া আর সরকারের কাছ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মতো দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ির সুবিধা নেওয়া ভিন্ন বিষয়।
সংসদ সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে গাড়ি বরাদ্দ না পেলেও মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য পান আলাদা ভাতা ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা পান। এছাড়া অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান তারা।
দেবিদ্বার পৌরসভার মরিচাকান্দা এলাকায় ২৫ জানুয়ারির নির্বাচনি উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ, ফাইল ছবি
আগে কী বলেছিলেন হাসনাত
নির্বাচনের আগে গত ২৫ জানুয়ারি এনসিপি মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চ) হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মরিচাকান্দা এলাকায় নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বলেছিলেন, ‘আমরা এমপি হওয়ার পরে আল্লাহ যদি তৌফিক দেয় কোনো এমপি ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিনবে এই রিচ্যুয়াল আর বাংলাদেশে থাকবে না। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি। আমি নিজে তো কিনবো না না নাই, আমার পরিবারকে ওটার সুযোগ-সুবিধা আমি হইতে দিবো না।’
সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন, এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা বাতিল করা হবে। এ নিয়ম থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না জামায়াতের এমপিরা
শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বিএনপির এমপিরা
এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণায় টিআইবির সাধুবাদ
সংসদে দাঁড়িয়ে গাড়ি চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না জামায়াতের এমপিরা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
নির্বাচনের পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিশির মনির জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়রা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।
শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বিএনপির এমপিরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করে। শপথের পর জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা নেবেন না এবং সরকারি কোনো প্লটও গ্রহণ করবেন না।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ছবি: বিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
এমপিদের জন্য পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা
গত ৩১ মার্চ নির্বাচনি এলাকায় সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অধিবেশনের এক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে ফ্লোর নিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের একটি সম্মানজনক খবর দেওয়ার জন্য তিনি দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন সংসদ সদস্যদের একটা দাবি ছিল যে উপজেলা পরিষদে গেলে তাদের বসার কোনো জায়গা থাকে না। তারা কোথাও বসতে পারেন না।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ ব্যাপারে কয়েক দিন আগে একজন সংসদ সদস্য দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরামর্শক্রমে এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দোতলায় এটাচ বাথরুম, আসবাবসহ সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের বসার জন্য একটি কক্ষ প্রস্তুত করে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কক্ষের নামটি হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। কারণ, সংসদ সদস্যের নামে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। সংসদ সদস্যরা ওখানে বসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ এবং সময় ব্যয় করতে পারবেন। কোনো সংসদীয় আসনে একাধিক উপজেলা থাকলে সব উপজেলায় ওই সংসদ সদস্যের অফিস থাকবে, তিনি বসতে পারবেন।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার এমপিদের জন্য গাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, ছবি: বিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
সরকারি গাড়ি চেয়েছেন হাসনাত
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সংসদে বলেন, ‘আমি সব সময় বিরোধিতার জন্য দাঁড়াই। আজকে থ্যাংকিউ জানাচ্ছি যে আজকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত (বসার ব্যবস্থা) নিয়েছেন। এই অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাংকিউ জানাচ্ছি যে একটা বসার ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। সেটা হচ্ছে যে আমাদের ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলা চেয়ারম্যানেরও একটা গাড়ি থাকে। আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আমাদের যদি... আমরা লজ্জায় এটা বলতে পারি না। আমরা এটা লজ্জায় কোথাও বলতে পারি না। এখন আমাদের যদি একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছে, এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়, তাইলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়, মানুষের কাছে একটু যাইতে পারি।’
হাসনাতের এই কথা শুনে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। অনেকে হাসতে হাসতে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ছবি: বিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা করার অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
হাসনাত আবদুল্লাহর এ কথার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, সেদিন সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রথমেই দুটি অনুশাসন দেন। আমরা এমপিরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবো না। সেই হিসেবে হিসেবে অনুশাসন দিয়েছেন। একটা আইন আছে। এটা সংসদ সচিবালয় থেকে লিড করবে। এই আইনে আমরা সংশোধনী আনবো যে এই মহান জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবো না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। সে জন্য কীভাবে কী করা যায়, সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা, সেটা আলাদাভাবে আলাপ-আলোচনা করে সরকারি দল, বিরোধী দল, একটা বিহিত–ব্যবস্থা করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ছবি: বিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
ছোটদের ‘না’ বলতে নেই: বিরোধীদলীয় নেতা
হাসনাতের বক্তব্যের পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ধন্যবাদ দিতে দাঁড়িয়েছেন। কারণ, বিরোধী দলেরই একজন সদস্য এই দাবি সামনে এনেছিলেন। তিনি বলেন, “একটা কথা আছে যে ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নাই। তাদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে। সাথে সাথে না না বললে আমি বেশি খুশি হইতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম এত বড় খবরের পরে বিরোধীদল থেকে কিছু মিষ্টি খাওয়াই দিবো। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি। পারলাম না। একটা ধাক্কা খেলাম।’
এরপর বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার শেষ লাইনে বলেছেন তারা বিবেচনা করে দেখবেন।’
আরও পড়ুন
আমরা লজ্জায় কিছু বলতে পারি না, একটা গাড়ি দিন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাসনাত
নতুন মন্ত্রীদের জন্য ৫০ গাড়ি গেলো সংসদ ভবনে
বাতিল হচ্ছে এমপিদের বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি সুবিধা
সরকার থেকে গাড়ি বরাদ্দ করলে এমপিদের আমদানির প্রয়োজন নেই
গাড়ি বরাদ্দ করলে এমপিদের আমদানির প্রয়োজন নেই
সরকার থেকে বরাদ্দ করলে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির প্রয়োজন নেই বলে গত সংসদে বলেছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
২০২৪ সালের ১২ জুন তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরে সংসদ অধিবেশনে বলেছিলেন, এবারের বাজেটে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ধার্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হয়তো মহৎ উদ্দেশ্য থেকে এটা করা হয়েছে। যেহেতু উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়ররা সরকার থেকে বরাদ্দ করা গাড়ি পান, অনেক সংসদ সদস্যের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। কিন্তু তাদের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে হয়। গাড়ি তাদের বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। সরকার থেকে গাড়ি বরাদ্দ করলে তার গাড়ি আমদানির প্রয়োজন নেই।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কয়েকটি গাড়ি, ফাইল ছবি
গাড়ি না পেলেও যেসব সুবিধা পান এমপিরা
বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত নানা ধরনের বেতন-ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা ভোগ করে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটি সংশোধিত হয়।
একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা পান। এছাড়া মাসিক ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতাও পেয়ে থাকেন সংসদ সদস্যরা।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা মাসে আরও কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা; যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত।
আরও পড়ুন
সরকারি গাড়ি চান সংসদের উপসচিবরাও
মন্ত্রীদের মতো গাড়ি ও চালক চান সংসদীয় কমিটির সভাপতি
এখন থেকে গাড়িতে ৩০% জ্বালানি কম নেবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা
৮ পাম্প ঘুরেও গাড়ির তেল পাননি এমপি, সংসদে এলেন লোকাল বাসে
সংসদ সদস্যদের জন্য বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। তবে এই সুবিধা আর চান না বর্তমান সংসদের সদস্যরা।
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা পান। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও দেওয়া হয়।
সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে সদস্যরা দৈনিক ভাতাও পান। উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবন, ফাইল ছবি
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় তাদের।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বীমা কার্যকর হয়।
এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না।
এমএমএআর
What's Your Reaction?
