গ্রামের বাড়িতে হরিণ-ময়ূর-গাড়ল নিয়ে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার

বিদেশের মাটিতে বসেও ভুলে যাননি নিজের শেকড়, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন নিয়ে ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যতিক্রমধর্মী একটি খামার গড়ে তুলেছেন আমেরিকা প্রবাসী রফিকুর রহমান। তার খামারে রয়েছে হরিণ, ময়ূর, গরু, গাড়ল ও দেশি-বিদেশি জাতের ছাগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। জানা যায়, সদরপুর উপজেলার রফিকুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে আমেরিকায় বসবাস করছেন। তার স্বপ্ন দেশের মাটিতে কিছু করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন খামার। একদিকে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন অপরদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এই নিয়ে গড়ে উঠেছে তার স্বপ্ন। উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা এই খামারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারটি দেখতে আসছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে হরিণ ও ময়ূরের উপস্থিতি যেন বাড়তি আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে। খামারটির তত্ত্বাবধায়ক ওই প্রবাসীর বড় ভাই মো. দলিল উদ্দিন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণী পালন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি কর

গ্রামের বাড়িতে হরিণ-ময়ূর-গাড়ল নিয়ে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার
বিদেশের মাটিতে বসেও ভুলে যাননি নিজের শেকড়, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন নিয়ে ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যতিক্রমধর্মী একটি খামার গড়ে তুলেছেন আমেরিকা প্রবাসী রফিকুর রহমান। তার খামারে রয়েছে হরিণ, ময়ূর, গরু, গাড়ল ও দেশি-বিদেশি জাতের ছাগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। জানা যায়, সদরপুর উপজেলার রফিকুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে আমেরিকায় বসবাস করছেন। তার স্বপ্ন দেশের মাটিতে কিছু করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন খামার। একদিকে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন অপরদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এই নিয়ে গড়ে উঠেছে তার স্বপ্ন। উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা এই খামারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারটি দেখতে আসছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে হরিণ ও ময়ূরের উপস্থিতি যেন বাড়তি আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে। খামারটির তত্ত্বাবধায়ক ওই প্রবাসীর বড় ভাই মো. দলিল উদ্দিন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণী পালন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই রফিকুর রহমানের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে খামারে কয়েকজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে খামার বলতে সাধারণত গরু-ছাগলকেই বোঝানো হয়। আমরা চেয়েছি একটু ভিন্ন কিছু করতে। যাতে মানুষ নতুন কিছু দেখতে পারে এবং তরুণ উদ্যোক্তারা উৎসাহ পায়। স্থানীয়রা জানান, সদরপুরে এমন ব্যতিক্রমী খামার আগে দেখা যায়নি। এটি একদিকে যেমন বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দিকও উন্মোচন করেছ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সব্যসাচী মজুমদার জানান, প্রবাসী রফিকুর রহমান বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধি-বিধান মেনে খামার পরিচালনা করছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার এ উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তাদের প্রাণিসম্পদ খাতে আগ্রহী করে তুলবে।  তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামারটি পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করে রফিকুর রহমান দেখিয়েছেন, আধুনিক কৃষি খাত ও প্রাণী পালন হতে পারে একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। তার এই ‘মিনি চিড়িয়াখানা’ সদৃশ খামারটি দেখে অনেক বেকার যুবক ও নতুন উদ্যোক্তারা এখন এমন উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রবাসে থেকেও দেশের মাটির টানে রফিকুর রহমানের এই বিনিয়োগ ফরিদপুরের সদরপুরের আমিরাবাদ গ্রামকে এখন এক নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow