ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়
গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে অসহনীয় খিঁচুনি বা টনটনে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে পা সোজা করা, বাঁকানো বা নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক মিনিট ধরে মাসাজ বা হাত বুলানোর পর ব্যথা কিছুটা কমলেও অনেক সময় এর রেশ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প (Nocturnal Leg Cramp)। এটি মূলত রাতে পায়ের পেশিতে, বিশেষ করে কাফ মাসলে হঠাৎ খিঁচুনি ধরার একটি সাধারণ সমস্যা। কখনও কখনও ব্যথা উরু বা পায়ের পাতাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ ধরনের পেশির খিঁচুনিতে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
কেন হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। যেমন:
শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন
প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে পেশির ক্লান্তি
ডায়াবেটিস, কিডনি বা স্নায়ুর কিছু রোগ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
র
গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে অসহনীয় খিঁচুনি বা টনটনে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে পা সোজা করা, বাঁকানো বা নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েক মিনিট ধরে মাসাজ বা হাত বুলানোর পর ব্যথা কিছুটা কমলেও অনেক সময় এর রেশ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প (Nocturnal Leg Cramp)। এটি মূলত রাতে পায়ের পেশিতে, বিশেষ করে কাফ মাসলে হঠাৎ খিঁচুনি ধরার একটি সাধারণ সমস্যা। কখনও কখনও ব্যথা উরু বা পায়ের পাতাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ ধরনের পেশির খিঁচুনিতে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
কেন হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে বিভিন্ন কারণে এমন হতে পারে। যেমন:
শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন
প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে পেশির ক্লান্তি
ডায়াবেটিস, কিডনি বা স্নায়ুর কিছু রোগ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রাতে বেশি হয় কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর বিশ্রামে থাকায় রাতেই এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এর কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হলো:
সারাদিনের পরিশ্রমের পর পেশিতে ক্লান্তি জমে থাকা
ঘুমের সময় মোটর নিউরনের অস্বাভাবিক সংকেতের কারণে পেশি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যাওয়া
বিশ্রামের সময় রক্ত সঞ্চালন কিছুটা কমে যাওয়ায় পেশিতে অক্সিজেনের সরবরাহ হ্রাস পাওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশিতন্তু শক্ত ও ছোট হয়ে যাওয়া
রাতে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্নায়ু ও পেশির সংযোগস্থল অতিসংবেদনশীল হয়ে ওঠা
খিঁচুনি শুরু হলে কী করবেন?
পায়ের পেশিতে খিঁচুনি ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে যে সহজ কাজগুল করবেন:
আক্রান্ত পেশিতে হালকা করে মাসাজ করুন।
পা সোজা করে পায়ের আঙুল শরীরের দিকে টেনে স্ট্রেচ করার চেষ্টা করুন।
ব্যথা কিছুটা কমলে ধীরে ধীরে হাঁটুন।
আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিলে আরাম মিলতে পারে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
বিশেষজ্ঞরা যে সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার পরামর্শ দেন:
পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ঘুমানোর আগে কাফ মাসলের স্ট্রেচিং করুন।
দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।
ব্যায়াম করলেও অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বা ঘন ঘন পায়ের খিঁচুনি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি:
সপ্তাহে কয়েকবার এ সমস্যা হয়।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও খিঁচুনি না কমে।
খিঁচুনির কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
পা ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা গরম অনুভূত হয়।
পায়ে অসাড়তা বা শিরশিরে অনুভূতি থাকে।
নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর এ সমস্যা দেখা দেয়।
খিঁচুনির পর দীর্ঘ সময় পেশি দুর্বল লাগে।
চিকিৎসকদের মতে, মাঝে মধ্যে নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প হওয়া সাধারণ ঘটনা হলেও এটি যদি নিয়মিত হয় বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।