ঘুম ভাঙতেই মোবাইল? হতে পারে বড় ক্ষতি

ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল স্ক্রল করার অভ্যাস এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। চোখ খুলেই অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজ বা ভিডিওতে ডুবে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা কেন ক্ষতিকর? ঘুমের সময় শরীর ও মস্তিষ্ক দু’টিই পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। এই সময়ে শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ সক্রিয় থাকে, বিশেষ করে হাইপোথ্যালামাস ও ব্রেনস্টেম। এরা শরীরের জৈবিক ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘুম থেকে জাগরণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই যদি চোখ যায় মোবাইলের উজ্জ্বল পর্দায়, তাহলে সেখান থেকে নির্গত নীল আলো এই সংবেদনশীল স্নায়ু কার্যক্রমে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে জেগে ওঠার পরিবর্তে হঠাৎ চাপের মধ্যে পড়ে যায়, যা স্নায়বিক ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে। মানসিক চাপ ও মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব গবেষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যাসে ডোপামিন নামের একটি স্নায়ু রসের নিঃসরণ বেড়ে যেতে

ঘুম ভাঙতেই মোবাইল? হতে পারে বড় ক্ষতি

ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল স্ক্রল করার অভ্যাস এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। চোখ খুলেই অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজ বা ভিডিওতে ডুবে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখা কেন ক্ষতিকর?

ঘুমের সময় শরীর ও মস্তিষ্ক দু’টিই পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। এই সময়ে শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ সক্রিয় থাকে, বিশেষ করে হাইপোথ্যালামাস ও ব্রেনস্টেম। এরা শরীরের জৈবিক ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘুম থেকে জাগরণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই যদি চোখ যায় মোবাইলের উজ্জ্বল পর্দায়, তাহলে সেখান থেকে নির্গত নীল আলো এই সংবেদনশীল স্নায়ু কার্যক্রমে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে জেগে ওঠার পরিবর্তে হঠাৎ চাপের মধ্যে পড়ে যায়, যা স্নায়বিক ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে।

মানসিক চাপ ও মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব

গবেষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যাসে ডোপামিন নামের একটি স্নায়ু রসের নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে ভালো লাগা বা উত্তেজনা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা, অস্থির মনোভাব এবং অযথা দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখলে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন এবং মানসিক ক্লান্তির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই দিনের শুরুটা খিটখিটে মেজাজ দিয়ে হতে পারে।

আরও পড়ুন: 

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স নামক অংশের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এই অংশটি মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মনোযোগ এবং যুক্তিভিত্তিক চিন্তার জন্য দায়ী। এর প্রভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে-

  • মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা
  • সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া
  • চিন্তায় অস্পষ্টতা বা ‘ব্রেন ফগ’
  • সহজে বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া

মস্তিষ্কের স্মৃতি তৈরির মূল কেন্দ্র হিপোক্যাম্পাস ও এনটোরাইনাল কর্টেক্সও এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হতে পারে। একসঙ্গে অনেক তথ্য দ্রুত স্ক্রল করে দেখার কারণে মস্তিষ্ক কোনো একটি বিষয়ে গভীরভাবে মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে স্মৃতি সংরক্ষণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা দিনের বড় একটি সময় মোবাইলে ভিডিও দেখা বা সামাজিক মাধ্যমে স্ক্রলিংয়ে ব্যয় করেন, তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরচর্চা বা বিরতি ছাড়াই স্ক্রিনে সময় কাটান, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

কীভাবে অভ্যাস বদলানো যায়?

এই সমস্যা পুরোপুরি রাতারাতি ঠিক করা কঠিন হলেও কিছু ছোট পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে। যেমন-

  • ঘুম থেকে উঠে অন্তত ২০-৩০ মিনিট মোবাইল না দেখা
  • সকালে হালকা হাঁটা বা শরীরচর্চা করা
  • নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে দিন শুরু করা
  • ঘুমানোর আগে ও পরে ‘স্ক্রিন ফ্রি টাইম’ রাখা

এই ছোট অভ্যাসগুলো মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।

সর্বোপরি ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল স্ক্রল করার অভ্যাস দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মনোযোগ এবং মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow