যে মাঠে একসময় ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে দর্শকদের মাতিয়েছেন তামিম ইকবাল, সেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে তার আগমনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবেগঘন পরিবেশ। ঘরের ছেলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকে প্রথমবার নিজ শহরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে আসছেন—এ খবরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নগরজুড়ে।
সাগরিকা স্টেডিয়াম ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর প্রবেশপথ এবং আশপাশের সড়কজুড়ে টানানো হয়েছে বড় বড় পোস্টার ও ব্যানার। তামিম ইকবালকে অভিনন্দন জানিয়ে সাজানো এসব আয়োজনে ফুটে উঠেছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াপ্রেমীদের গর্ব ও আবেগ। রাস্তার দুই পাশ থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের গেট পর্যন্ত পুরো এলাকা যেন রূপ নিয়েছে এক উৎসবমুখর মঞ্চে।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ঘিরে আজ বৃহস্পতিবার সাগরিকা পাড়ে ছিল বাড়তি উত্তেজনা ও দর্শক উপস্থিতি। সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচকে ঘিরে আগে থেকেই স্টেডিয়াম এলাকায় জমে উঠেছিল ক্রিকেটীয় আবহ, যার সঙ্গে যোগ হয়েছে তামিমকে কেন্দ্র করে আলাদা উচ্ছ্বাস।
স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে চোখে পড়ছে তামিম ইকবালের ব্যাটিং মুহূর্তের বিশাল ব্যানার, যেখানে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পোস্টারগুলোতে তার নতুন দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং চট্টগ্রামের ক্রিকেটে তার অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
মাঠে খেলা দেখতে আসা দর্শকরাও এই আবেগের অংশ হয়েছেন। অনেকেই পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ আলোচনা করছেন তামিমের নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে। দর্শকরা বলছেন, আগে যাকে মাঠে ব্যাট হাতে দেখেছেন, এখন তাকে দেশের ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দেখা তাদের জন্য এক ভিন্ন অনুভূতি।
খেলা দেখতে আসা দর্শক হাসান বলেন,'তামিম ইকবাল আমাদের চট্টগ্রামের ছেলে। যে মাঠে তিনি একসময় ব্যাট হাতে খেলেছেন, আজ সেখানে তিনি বিসিবির সভাপতি হিসেবে আসবেন—এটা আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই।'
খুদে ক্রিকেটার রাফসান রাফী বলেন,‘আমরা ছোটবেলা থেকে তামিম ভাইকে খেলা দেখেছি। এখন তিনি দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে আছেন, এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাক।’
এদিকে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে সাগরিকা এলাকায় নিরাপত্তা ও দর্শক চাপে ছিল বাড়তি সতর্কতা। তবে সবকিছুর মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ক্রিকেটীয় উত্তেজনার পাশাপাশি তামিম ইকবালকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আবহ সাগরিকার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। পরিচালকদের একাংশের পদত্যাগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
এই অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে তামিম ইকবালকে। তিন মাস মেয়াদি এই কমিটিতে আরও রয়েছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানী, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও কমিটির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।