চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার মরদেহ দুটি স্বামী-স্ত্রীর

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ‘রয়েল পার্ক’ নামের ওই হোটেলের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁঁয়াশা। পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে মোহাম্মদ রিপন (৪৭) ও সোনিয়া আক্তার (৩০) নামের ওই দম্পতি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন এবং চারতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা হোটেল রেজিস্ট্রারে নিজেদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হোটেলের এক কর্মী কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গেলে তারা তাকে জানান, পর দিন সকাল ৭টায় যেন তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। এরপর তারা কক্ষের ভেতরেই অবস্থান করেন। পর দিন সকালে নির্ধারিত সময়ে ডাকাডাকি করতে গিয়ে হোটেল কর্মীরা কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হলে ভেতরে প্রবেশ করে একজনকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং আরেকজনকে খাটে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশক

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার মরদেহ দুটি স্বামী-স্ত্রীর

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে ‘রয়েল পার্ক’ নামের ওই হোটেলের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁঁয়াশা।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে মোহাম্মদ রিপন (৪৭) ও সোনিয়া আক্তার (৩০) নামের ওই দম্পতি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন এবং চারতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তারা হোটেল রেজিস্ট্রারে নিজেদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হোটেলের এক কর্মী কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গেলে তারা তাকে জানান, পর দিন সকাল ৭টায় যেন তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। এরপর তারা কক্ষের ভেতরেই অবস্থান করেন।

পর দিন সকালে নির্ধারিত সময়ে ডাকাডাকি করতে গিয়ে হোটেল কর্মীরা কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হলে ভেতরে প্রবেশ করে একজনকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং আরেকজনকে খাটে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুরুষের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং নারীর মরদেহ খাটে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নারীর মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে নারীর নাম সোনিয়া আক্তার উল্লেখ রয়েছে। তবে হোটেল রেজিস্ট্রারের তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুজন চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা এবং তারা পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাদের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জটিলতার কারণে তারা মানসিক চাপে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

হোটেল কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় থাকায় ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কীভাবে দরজা খোলা ছিল, ভেতর থেকে নাকি বাইরে থেকে এটি খোলা হয়েছে তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে। নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চারতলার ওই কক্ষে কোনো সিসিটিভি ছিল না, তবে হোটেলের অন্যান্য অংশের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পিবিআই আলামত সংগ্রহ করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

মরদেহ দুটি সুরতহাল শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow