চট্টগ্রামে এবার হচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা

চট্টগ্রামে এবার হচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এ মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান শুরু হওয়ায় মেলা আয়োজন করা হয়নি। তবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে স্বাধীনতা বইমেলা আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। চট্টগ্রামে বইমেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটির সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এ আয়োজন হয়ে থাকে। এতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। মাঝখানে করোনাকালীন সময়ে দুই বছর মেলার আয়োজন হয়নি। সর্বশেষ গত বছর নগরীর জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ১৪০টি স্টল নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর পাশাপাশি বন্দরনগরীতেও এই মেলায় প্রতিবছর বইপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে। চসিকের সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং রমজান শুরু হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত ছিল না। প্রকাশকরাও রমজানে আসার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখান না। তবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বই মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সময়স

চট্টগ্রামে এবার হচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা
চট্টগ্রামে এবার হচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এ মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান শুরু হওয়ায় মেলা আয়োজন করা হয়নি। তবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে স্বাধীনতা বইমেলা আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। চট্টগ্রামে বইমেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটির সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এ আয়োজন হয়ে থাকে। এতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। মাঝখানে করোনাকালীন সময়ে দুই বছর মেলার আয়োজন হয়নি। সর্বশেষ গত বছর নগরীর জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ১৪০টি স্টল নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর পাশাপাশি বন্দরনগরীতেও এই মেলায় প্রতিবছর বইপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে। চসিকের সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং রমজান শুরু হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত ছিল না। প্রকাশকরাও রমজানে আসার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখান না। তবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বই মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সময়সূচি চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এ দিকে এবার অমর একুশে বইমেলা না হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ নির্বাচন ও রমজানের কারণে বইমেলা আয়োজন না করাকে সাধুবাদ জানালেও অনেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। প্রকাশকদের মতে, রমজান মাসে সাধারণত বিকেল ও রাতকেন্দ্রিক কার্যক্রম সীমিত থাকে, পাঠকের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম হয়। স্টল ভাড়া, সাজসজ্জা, জনবল ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়, তা তোলাই কঠিন হয়ে পড়ত। চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দীন বাবু বলেন, নির্বাচনের আগে আয়োজনের পরিবেশ ছিল না। আর নির্বাচন শেষে রোজা শুরু হওয়ায় প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যেত না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সীমিত হয়ে যেত। তাই রমজানের পর আয়োজনের দাবিই ছিল প্রকাশকদের পক্ষ থেকে। তবে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও চট্টগ্রামে মেলা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক লেখক-পাঠক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রকাশ দাশগুপ্ত বলেন, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা না হওয়া শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য ভালো বার্তা নয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে যুক্ত এ আয়োজন স্থগিত থাকলে লেখক-পাঠকের মানসিক সংযোগে প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ও অনুবাদক আলমগীর মোহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বরাবরই উন্নয়ন ও শিল্প-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে থাকে। এবারের বইমেলা যথাসময়ে আয়োজন করতে অসমর্থ হওয়াটা সেটারই একটা পরিণতি। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ উদ্যোগী হয়ে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ যথাসময়ে আয়োজন করতে সমর্থ হলে লেখক-পাঠকদের জন্য ভালো কিছু হতো। তবুও আশা করব, দেরিতে হলেও স্বাধীনতা দিবসকে প্রতিপাদ্য করে বইমেলা আয়োজন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow