চট্টগ্রামে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই

চট্টগ্রাম নগরীতে বেড়েছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, বাকিগুলো চাপা পড়ে যায়। রমজান শুরুর পর থেকেই বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ঈদ ঘিরে বিশেষ টিম মাঠ সক্রিয় থাকবে।  অভিযোগ রয়েছে, চোর ছিনতাইকারীদের মধ্যে পুলিশের ভীতিও অনেকটা নষ্ট হয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ে হটস্পট কোতোয়ালি, বাকলিয়া, সদরঘাট, আকবরশাহ, ডবলমুরিং, হালিশহর, চান্দগাঁও, বায়েজিদ, বন্দর ও খুলশী। এসব স্পটে কয়েকটি গ্রুপ চুরি-ছিনতাইয়ে সক্রিয়রা পুলিশের তালিকাভুক্ত বা চেনা। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতে চুরির আলাদা গ্রুপ রয়েছে। তাদের সঙ্গে পুলিশের ভাবও বেশ ভালো। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার সুবাদে দাগি আসামি, চোর-ছিনতাইকারীরা পার পেয়ে যায়।  পুলিশের ভাষ্য, প্রতিদিন চোর, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের ঊর্ধ্বতনদের বার্তা থাকে। প্রতিদিন ছিনতাইকারী, চোর পাওয়াও যায় না। সাধারণ মানুষকে তো আর চোর বলে চালান দিতে পারি না। তালিকাভুক্ত অনেক চোর বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তবে জামিনে মুক্ত হয়েছে কি না জানা নেই।  কাপড় ব্যবসায়ী মো. মজুমদার কালবেলাকে বলেন, সারা বছর চুরি-ছিনতাই লেগে আছে। তবে ঈদ বা

চট্টগ্রামে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই

চট্টগ্রাম নগরীতে বেড়েছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, বাকিগুলো চাপা পড়ে যায়। রমজান শুরুর পর থেকেই বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, ঈদ ঘিরে বিশেষ টিম মাঠ সক্রিয় থাকবে। 

অভিযোগ রয়েছে, চোর ছিনতাইকারীদের মধ্যে পুলিশের ভীতিও অনেকটা নষ্ট হয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ে হটস্পট কোতোয়ালি, বাকলিয়া, সদরঘাট, আকবরশাহ, ডবলমুরিং, হালিশহর, চান্দগাঁও, বায়েজিদ, বন্দর ও খুলশী। এসব স্পটে কয়েকটি গ্রুপ চুরি-ছিনতাইয়ে সক্রিয়রা পুলিশের তালিকাভুক্ত বা চেনা। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতে চুরির আলাদা গ্রুপ রয়েছে। তাদের সঙ্গে পুলিশের ভাবও বেশ ভালো। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার সুবাদে দাগি আসামি, চোর-ছিনতাইকারীরা পার পেয়ে যায়। 

পুলিশের ভাষ্য, প্রতিদিন চোর, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের ঊর্ধ্বতনদের বার্তা থাকে। প্রতিদিন ছিনতাইকারী, চোর পাওয়াও যায় না। সাধারণ মানুষকে তো আর চোর বলে চালান দিতে পারি না। তালিকাভুক্ত অনেক চোর বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তবে জামিনে মুক্ত হয়েছে কি না জানা নেই। 

কাপড় ব্যবসায়ী মো. মজুমদার কালবেলাকে বলেন, সারা বছর চুরি-ছিনতাই লেগে আছে। তবে ঈদ বাজার উপলক্ষে তাদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। মোবাইল, মানিব্যাগ, অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি চুরি-ছিনতাইয়ের খবর রমজানে বেশি শোনা যায়।

তিনি আরও বলেন, অফিস আদালতে সময়সূচি কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে ঈদ কেনাকাটায় পরিবারের সদস্যরা বের হবে এটাই বাস্তবতা। রোজার মাসে এ বাস্তবতা বলি হয় চোর-ছিনতাইকারীর হাতে। এসব বলির খবর প্রকাশ্যে আসে না এবং থানা পুলিশও করা হয় না। ফলে দায়মুক্ত থাকে পুলিশ।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ডবলমুরিং মডেল থানাধীন আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাস্থ দি বিটিআই মেট্রোপোল এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং থেকে নিশান এক্সট্রেইল মডেলের গাড়ি চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। এ ঘটনায় থানায় জিডি হলে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ফৌজদারহাট ডিসি পার্ক এলাকা গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি মো. সাইমন (৩৬) একজন পেশাদার চোর। থানায় তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি, আগ্রাবাদ, বারিকবিল্ডিং, সল্টগোলা ক্রসিং, আউটার রিং রোড, বেড়িবাদ সড়ক, বায়েজিদ লিং রোড, হামজারবাগ, টেকনিক্যাল, মুরাদপুর, হালিশহর, অলংকার, নতুনব্রিজ, চামড়ার গুদাম, কল্পলোক আবাসিক, তুলাতুলি, বলিরহাট, আমবাগান, কমার্স কলেজ রোড, শুভপুর বাসস্ট্যান্ড, কদমতলী, সিআরবি, কাপাসগোলা, পোর্ট কানেকটিং রোড, চাক্তাই সিটি গেইট চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকা। কয়েকটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় চক্র এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন হাত ঘুরে সাধারণত রিয়াজুদ্দিন বাজারে এসব মোবাইল বিক্রি হয়। এর বাইরে কিছু মোবাইল চক্রের মাধ্যমে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঢাকায় পাঠানো হয় আর দামি মোবাইলগুলো সীমানা পাড়ি দিয়ে পাঠানো হয় ভারত ও দুবাইয়ে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় শামীমা আক্তার (২৩) নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়ির পাশেই মাছ ব্যবসায়ীদের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বাকলিয়া থানা এলাকায় ওসমান গণি রিপনের নেতৃত্বে সবুজ ও দাঁতলা রুবেল সক্রিয়।  

সিএমপির তথ্যমতে, গত তিনদিন চট্টগ্রামে পুলিশের অভিযানে ৭১ জন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুমন নামের এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানা পুলিশ প্রথমে চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে আন্তরিক থাকেন। পরে বিরক্তবোধ করেন। ডবলমুরিং মডেল থানা দুটি মোবাইল উদ্ধারের জন্য দায়ের করা জিডির বয়স প্রায় দেড় বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনজন ওসি রদবদল হয়েছে। কিন্তু মোবাইলের কোনো খবর মিলেনি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। ঈদ উপলক্ষে আমাদের কয়েক স্তরের পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। বাহিনীর পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী সদস্যরা রয়েছেন। এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো। আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ থাকল। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow