চাঁদপুরে কোরবানির হাটে নজর কাড়ছে ‘জোড়া কিং’
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। এরই মধ্যে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বিশালাকৃতির দুটি ষাঁড় ‘জোড়া কিং’কে ঘিরে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ। জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার দারুনকরা গ্রামের শাহরাস্তি এগ্রো ফার্মের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেন ঈদ উপলক্ষে প্রায় এক বছর আগে দুটি ষাঁড় কিনে লালন-পালন শুরু করেন। গরু দুটির একটির ওজন প্রায় ২২ মণ এবং অন্যটির প্রায় ২০ মণ। বিশাল আকৃতি, আকর্ষণীয় গড়ন ও সুস্বাস্থ্যের কারণে প্রতিদিনই গরু দুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা ও উৎসুক দর্শনার্থীরা। খামার মালিকের দাবি, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। ‘জোড়া কিং’-এর দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। খামারি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছি। দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় করা হয়েছে। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি হয়ে যাবে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সফরমালী পশুর হাটেও বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতা-বিক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। এরই মধ্যে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বিশালাকৃতির দুটি ষাঁড় ‘জোড়া কিং’কে ঘিরে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।
জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার দারুনকরা গ্রামের শাহরাস্তি এগ্রো ফার্মের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেন ঈদ উপলক্ষে প্রায় এক বছর আগে দুটি ষাঁড় কিনে লালন-পালন শুরু করেন। গরু দুটির একটির ওজন প্রায় ২২ মণ এবং অন্যটির প্রায় ২০ মণ।
বিশাল আকৃতি, আকর্ষণীয় গড়ন ও সুস্বাস্থ্যের কারণে প্রতিদিনই গরু দুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা ও উৎসুক দর্শনার্থীরা।
খামার মালিকের দাবি, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। ‘জোড়া কিং’-এর দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
খামারি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছি। দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় করা হয়েছে। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি হয়ে যাবে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সফরমালী পশুর হাটেও বাড়তে শুরু করেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাটজুড়ে চলছে পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি ও দরদাম। যদিও ঈদের এখনও কিছুদিন বাকি থাকায় পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা, তবুও বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে বলে জানিয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৩৪৬টি ষাঁড়, ৮ হাজার ৩৬৬টি বলদ, ১০ হাজার ৫৭১টি গাভী, ২৩টি মহিষ, ১৯ হাজার ৩৪৬টি ছাগল এবং ৪৪৬টি ভেড়া।
গরু ব্যবসায়ী কালা চোকদার বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও কেনাবেচা। তবে পশুখাদ্য, ভুসি, খড় ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম বাড়ার অন্যতম কারণ পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য। তবে হাটে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে, সংকটের আশঙ্কা নেই।
শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, শহরের অনেক পরিবারই এখন স্থানীয় খামারিদের গরু কিনতে আগ্রহী। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে আমরা স্থানীয় খামারের গরু দিয়ে কোরবানি করছি। ব্যাপারীদের গরু নিয়ে অনেক সময় শঙ্কা থাকে, কারণ কিছু ক্ষেত্রে মোটাতাজাকরণের জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
সফরমালী হাটের পরিচালক আয়াজ খান জানান, চাঁদপুরে সফরমালী হাটটি ঐতিহাসিক হাট। বিগত ৪০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে হাটটি পরিচালিত হচ্ছে। জেলায় সবার আগে এখানে কোরবানির হাট জমে। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এখানে পশু কিনতে আসেন। এই বছরও আগে ভাগের জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। আশা করছি সামনে পুরো জমে উঠবে কেনাবেচা।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জ্যোতিময় ভৌমিক জানান, এবারের ঈদুল আজহায় চাঁদপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার ২৪৮টি। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ১৪৮টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে এলে সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, জেলার খামারগুলোতে পর্যাপ্ত দেশীয় পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
শরীফুল ইসলাম/এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?