চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা হলেন নাঈম, ড্রাগনেই বাজিমাত
২০২১ সালে বাণিজ্যিক বাগানটি গড়ে তোলেন বাবার সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ চলতি মৌসুমে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা পড়াশোনা শেষ করে হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজেন মাজহারুল ইসলাম নাঈম। চারপাশে দৌড়াতে গিয়ে একসময় বেশ ক্লান্ত হন। এরমধ্যে দেশে এলো করোনা ভাইরাস। এতে মনে হতাশা আরও চেপে বসে। কিন্তু বসে থাকতে নারাজ নাঈম। কিছু একটা করতে হবে। ফল বাগান করার ইচ্ছে জাগে। নিজেদের জমি নেই! করোনার মধ্যে একটি অনাবাদি জমির ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন। এ ছাড়া পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও আছে অর্ধশতাধিক। আরও পড়ুন ফরিদপুরে আলুবোখারা চাষ / রাগ করে কেটে ফেলেন ১৮টি গাছ, ৭টিতেই হাবিবুরের বাজিমাত বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম আইসিটি প্রভাষক হিসেবে একটি মাদরাসায় কর্মরত। চাকরির ফাঁকে তিনি বাগানে সময় দেন। এ ছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের
- ২০২১ সালে বাণিজ্যিক বাগানটি গড়ে তোলেন
- বাবার সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ
- বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ
- চলতি মৌসুমে ২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা
পড়াশোনা শেষ করে হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজেন মাজহারুল ইসলাম নাঈম। চারপাশে দৌড়াতে গিয়ে একসময় বেশ ক্লান্ত হন। এরমধ্যে দেশে এলো করোনা ভাইরাস। এতে মনে হতাশা আরও চেপে বসে। কিন্তু বসে থাকতে নারাজ নাঈম। কিছু একটা করতে হবে। ফল বাগান করার ইচ্ছে জাগে। নিজেদের জমি নেই!
করোনার মধ্যে একটি অনাবাদি জমির ইজারা নিয়ে গড়ে তোলেন ফল বাগান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। গাছের সারিতে বিপুল কাঁচা-পাকা ড্রাগন। এ ছাড়া পেঁপে ও পেয়ারাসহ অন্য ফলও হচ্ছে। সঙ্গে ছাগলও আছে অর্ধশতাধিক।
বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম নাঈম আইসিটি প্রভাষক হিসেবে একটি মাদরাসায় কর্মরত। চাকরির ফাঁকে তিনি বাগানে সময় দেন। এ ছাড়া ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণে নিয়মিত কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামে নাঈমের বাগান। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি বাণিজ্যিক বাগানটি গড়ে তোলেন।
প্রথমে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কৃষিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন খান এগ্রো পার্ক। একের পর এক পরিকল্পিতভাবে সেখানে পেয়ারা, ড্রাগন, পেঁপের বাগান গড়ে তোলেন। দিনদিন বাগানের পরিধি বাড়তে থাকে।
বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি খুঁটিতে জড়ানো গাছে ফুল, কাঁচা, আধাপাকা, পাকা ড্রাগন ফলে ভরপুর। সবুজে যেন চোখ আটকে যায়। শ্রমিকরা পাকা ফল কেটে বালতিতে তুলছেন। অন্যরা টুকরি ভরে চালান ঘরে নিয়ে স্তূপ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা ওজন করে পাইকারি ফল সংগ্রহ করেন। বর্তমানে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে অর্ধকোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ১৫-২০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির সম্ভাবনা আছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘ড্রাগনে কম রোগবালাই ও ভালো বাজারমূল্যের কারণে সহজে লাভবান হওয়া যায়। কৃষকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে দিনদিন ড্রাগন চাষে অনেকে আগ্রহী হবেন। একসময় আমরা মনে করতাম, এটি বিদেশি ফল, এ দেশে হবে না। এখন দেখি আমাদের গ্রামের নাঈম চমকে দিয়েছেন।’
উদ্যোক্তা মাজহারুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘করোনার সময় ইউটিউব ও অনলাইনে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছিলাম। এখন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছেন।’
নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি বাগানের দেখভাল, তদারকি ও বাজারজাতকরণ দেখি। শুরুতে বিষয়টি নতুন ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে ড্রাগনের চাহিদাও বেশ। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-৩০০ টাকা কেজি।’
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের স্বপ্ন আর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে অনাবাদি জমির চিত্র। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থান ও কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ড্রাগন চাষ শুধু লাভজনক নয়, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে।’
কেকে/এসইউ
What's Your Reaction?


