চা নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এলো যেসব তথ্য

সকালের ঝিমুনি কাটানো থেকে শুরু করে সারাদিনের মানসিক চাপ কমাতে অনেকের কাছেই এক কাপ গরম চা যেন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। অনেকেই দিনে এতবার চা পান করেন যে, কয় কাপ খাওয়া হচ্ছে তার হিসাব রাখাও কঠিন হয়ে যায়। তবে দৈনন্দিন চা পানের পরিমাণ ও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে নতুন একটি গবেষণা। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকে। যদিও এই ‘পরিমিত’ মাত্রা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এর আগে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের পুষ্টিবিদ ভিক্টোরিয়া টেলর জানিয়েছিলেন, দিনে ৪ থেকে ৫ কাপ চা বা কফি বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটিকে পরিমিত মাত্রা হিসেবে ধরা যায়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ চা পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী বা আদর্শ মাত্রা হতে পারে। জেনারেল প্র্যাকটিশনার ডা. নিসা আসলামের গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কাপ ব্ল্যাক টি বা রং চা—দুধসহ কিংবা দুধ ছাড়া—পান করলে শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীরে প্রদাহের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য

চা নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এলো যেসব তথ্য

সকালের ঝিমুনি কাটানো থেকে শুরু করে সারাদিনের মানসিক চাপ কমাতে অনেকের কাছেই এক কাপ গরম চা যেন অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। অনেকেই দিনে এতবার চা পান করেন যে, কয় কাপ খাওয়া হচ্ছে তার হিসাব রাখাও কঠিন হয়ে যায়।

তবে দৈনন্দিন চা পানের পরিমাণ ও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে নতুন একটি গবেষণা।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকে। যদিও এই ‘পরিমিত’ মাত্রা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এর আগে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের পুষ্টিবিদ ভিক্টোরিয়া টেলর জানিয়েছিলেন, দিনে ৪ থেকে ৫ কাপ চা বা কফি বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটিকে পরিমিত মাত্রা হিসেবে ধরা যায়।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ চা পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী বা আদর্শ মাত্রা হতে পারে।

জেনারেল প্র্যাকটিশনার ডা. নিসা আসলামের গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ৩ থেকে ৪ কাপ ব্ল্যাক টি বা রং চা—দুধসহ কিংবা দুধ ছাড়া—পান করলে শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীরে প্রদাহের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য এটি বেশি কার্যকর হতে পারে।

ডা. আসলাম বলেন, এই ফলাফল হাঁপানি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ। 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের এই গবেষণা কোনোভাবেই এটি বলছে না যে চা খাওয়া ওষুধের বিকল্প হতে পারে। তবে এটি এই প্রমাণকে আরও জোরালো করে যে, প্রতিদিন আমরা যে চা পান করি, তা শরীরের প্রদাহজনিত স্ট্রেস বা চাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।’ 

চায়ের ভেতরে আসলে কী থাকে? 

গবেষকদের মতে, রঙ চা-তে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বেশ কিছু বায়ো-অ্যাক্টিভ যৌগ বা উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পলিফেনল (যেমন: ফ্লাভান-৩-ওলস, থিয়াফ্লাভিন, ক্যাটেচিন এবং কুয়েরসেটিন)। এই উপাদানগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রদাহজনিত পথের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। 

এই গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও গবেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা পুরোপুরি বুঝতে আরও বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া এই তথ্যকে একেবারে চূড়ান্ত সত্য না ধরে কিছুটা সচেতনতার সঙ্গে গ্রহণ করাই শ্রেয়। 

সূত্র: মেট্রো ডটকম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow