চোখে চোখ রেখে কথা বলেন না, লাজুকতা নাকি অন্যকিছু
কথা বলার সময় কেউ যদি চোখে চোখ রেখে কথা না বলেন, আমরা খুব সহজেই ধরে নিই তিনি লাজুক, আত্মবিশ্বাসহীন বা হয়তো কিছু লুকোচ্ছেন। সমাজে এই ধারণা এতটাই প্রচলিত যে, চোখ সরিয়ে কথা বলাকে অনেকেই দুর্বলতার লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, বাস্তবতা আসলে এতটা সহজ নয়। চোখে চোখ না রাখা সবসময় লাজুকতার চিহ্ন নয়, বরং এটি গভীর চিন্তাভাবনা, আবেগগত সংবেদনশীলতা, সাংস্কৃতিক অভ্যাস বা ভিন্ন মানসিক গঠনের প্রতিফলনও হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ মানসিক কাজ করতে পারে। তাই যখন কেউ জটিল কোনো প্রশ্নের উত্তর ভাবেন বা সঠিক শব্দ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, তখন অনেক সময় চোখে চোখ রাখা কঠিন হয়ে যায়। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এমনটাই জানিয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, কথোপকথনের সময় চোখ সরিয়ে নেওয়া সবসময় অস্বস্তির কারণে হয় না। বরং গভীরভাবে চিন্তা করার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং মানসিক বিশ্লেষণ-দুটাই একই ধরনের মনোযোগ হিসেবে কাজ করে। ফলে মানুষ অজান্তেই চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়, যাতে চিন্তায় বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মাঝেমধ্যে অন্যদ
কথা বলার সময় কেউ যদি চোখে চোখ রেখে কথা না বলেন, আমরা খুব সহজেই ধরে নিই তিনি লাজুক, আত্মবিশ্বাসহীন বা হয়তো কিছু লুকোচ্ছেন। সমাজে এই ধারণা এতটাই প্রচলিত যে, চোখ সরিয়ে কথা বলাকে অনেকেই দুর্বলতার লক্ষণ মনে করেন।
কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, বাস্তবতা আসলে এতটা সহজ নয়। চোখে চোখ না রাখা সবসময় লাজুকতার চিহ্ন নয়, বরং এটি গভীর চিন্তাভাবনা, আবেগগত সংবেদনশীলতা, সাংস্কৃতিক অভ্যাস বা ভিন্ন মানসিক গঠনের প্রতিফলনও হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ মানসিক কাজ করতে পারে। তাই যখন কেউ জটিল কোনো প্রশ্নের উত্তর ভাবেন বা সঠিক শব্দ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, তখন অনেক সময় চোখে চোখ রাখা কঠিন হয়ে যায়।
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও এমনটাই জানিয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, কথোপকথনের সময় চোখ সরিয়ে নেওয়া সবসময় অস্বস্তির কারণে হয় না। বরং গভীরভাবে চিন্তা করার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং মানসিক বিশ্লেষণ-দুটাই একই ধরনের মনোযোগ হিসেবে কাজ করে।
ফলে মানুষ অজান্তেই চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়, যাতে চিন্তায় বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। অর্থাৎ কেউ যদি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মাঝেমধ্যে অন্যদিকে তাকান, তার মানে এই নয় যে তিনি অনাগ্রহী, বরং তিনি হয়তো আপনাকে আরও ভালো ও চিন্তাশীল উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী মানুষেরা কেন চোখে চোখ রাখতে চান না
অনেক ইন্ট্রোভার্ট মানুষকে লাজুক ভাবেন। অথচ অন্তর্মুখিতা এবং লাজুকতা এক বিষয় নয়। ইন্ট্রোভার্ট মানুষ সাধারণত বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। তাই কথোপকথনের সময় তারা চোখে চোখ রাখার বদলে নিজের চিন্তার ভেতরে বেশি মনোযোগ দেন। তারা আসলে সম্পর্ক বা কথোপকথন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না। বরং আপনি যা বলছেন, সেটিকেই গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখছেন। তাই অনেক সময় চোখ সরিয়ে নেওয়া মানে আমি আগ্রহী নই নয়,বরং আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।
সেনসিটিভ বা সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রেও এমন হয়
মনোবিজ্ঞানী এলেইন অ্যারনের গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বভাবের হন। এরা অন্যদের আবেগ, পরিবেশ ও সামাজিক সংকেত অনেক বেশি তীব্রভাবে অনুভব করেন। এই ধরনের মানুষের কাছে দীর্ঘক্ষণ চোখে চোখ রাখা কখনো কখনো মানসিকভাবে চাপের মনে হতে পারে। বিশেষ করে আবেগঘন মুহূর্তে বা অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার সময়। তাই তারা অনেক সময় চোখ সরিয়ে কথা বলেন, যা আসলে আত্মরক্ষার একটি উপায়।
নিউরোডাইভারজেন্সের প্রভাবও রয়েছে
অনেক অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার -এ আক্রান্ত মানুষের জন্য চোখে চোখ রেখে কথা বলা অস্বস্তিকর এমনকি কষ্টদায়কও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক অটিস্টিক ব্যক্তি চোখে চোখ না রেখেও মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আন্তরিকভাবে যোগাযোগ করেন। তাই কারও চোখে চোখ না রাখাকে অভদ্রতা বা অনাগ্রহ হিসেবে বিচার করা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
সংস্কৃতিভেদেও বদলে যায় এই আচরণ
চোখে চোখ রেখে কথা বলার অর্থ সব সংস্কৃতিতে এক নয়। পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকার অনেক সংস্কৃতিতে বয়োজ্যেষ্ঠ বা কর্তৃত্বপূর্ণ ব্যক্তির দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়।
অর্থাৎ এক সংস্কৃতিতে যা আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ, অন্য সংস্কৃতিতে সেটিই অসৌজন্য হিসেবে ধরা হতে পারে। তাই চোখে চোখ রাখা নিয়ে আমাদের ধারণাগুলোও অনেকাংশে সাংস্কৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে।
পরের বার কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় অন্যদিকে তাকালে, সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে লাজুকতা বা অনাগ্রহ হিসেবে ধরে নেবেন না। হয়তো তিনি গভীরভাবে ভাবছেন, হয়তো আবেগ সামলাচ্ছেন, কিংবা হয়তো তার মানসিক গঠনটাই একটু ভিন্ন। মানুষের আচরণের পেছনে কারণ অনেক গভীর হতে পারে। তাই বিচার করার আগে বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: টাইমস নাউ, মিডিয়াম
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?