ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, দেওয়ালে বড় বড় ফাটল
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মূল নগর ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চারতলা এই ভবনটির ছাদ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেওয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে ভবনের তৃতীয় তলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষের ছাদ থেকে বড় একটি পলেস্তারা খসে পড়লে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, আশি ও নব্বইয়ের দশকের নকশা অনুযায়ী নির্মিত এই ভবনটির বহু আগেই তার মেয়াদ অতিক্রম করেছে। ৪৬ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ৩৫ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা ভবনের নির্মাণ শুরু হলেও, ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর মূল নকশার বাইরে ভবনটি তিন তলায় সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটিতে কক্ষ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। মূলত সাড়ে ৪শ জনবলের জন্য নির্মিত এই ভবনে এখন প্রায় ১ হাজার ৬শ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষের যাতায়াত এখানে। এরই মধ্যে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও ম
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মূল নগর ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চারতলা এই ভবনটির ছাদ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেওয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে ভবনের তৃতীয় তলায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষের ছাদ থেকে বড় একটি পলেস্তারা খসে পড়লে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, আশি ও নব্বইয়ের দশকের নকশা অনুযায়ী নির্মিত এই ভবনটির বহু আগেই তার মেয়াদ অতিক্রম করেছে। ৪৬ শতাংশ জমির ওপর প্রথমে ৩৫ কক্ষবিশিষ্ট দোতলা ভবনের নির্মাণ শুরু হলেও, ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর মূল নকশার বাইরে ভবনটি তিন তলায় সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটিতে কক্ষ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে।
মূলত সাড়ে ৪শ জনবলের জন্য নির্মিত এই ভবনে এখন প্রায় ১ হাজার ৬শ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষের যাতায়াত এখানে। এরই মধ্যে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার চারটি বিভাগের কার্যক্রমও মূল ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে ভবনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল বাসার জানান, ভবনটির কোনো মূল কাঠামোগত নকশা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি মূল কলামগুলোতে দেখা দেওয়া ফাটল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন প্রথম নগর ভবন স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তী মেয়ররাও সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বর্তমান বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় ১৫ তলা বিশিষ্ট নতুন নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ও নকশা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায়। দ্রুত অনুমোদন মিললে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শাওন খান/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?