ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাড়ে চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পেলেন তেল
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ছেলে শাহরিয়ারের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর দয়াগঞ্জে যাওয়ার পথে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাইদুর রহমান ও তার পরিবার। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই কাছের পাম্পে তেল না পেয়ে তারা ঢাকার দিকে রওনা দেন এই আশায় যে পথে কোথাও তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু একের পর এক পাম্পে গিয়ে একই দৃশ্য দেখতে পান—তেল নেই, বিক্রি বন্ধ। শেষ পর্যন্ত সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বিজয় সরণির আগে একটি পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে যান সাইদুর। প্রচণ্ড রোদে তিনি রাস্তায় মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, আর স্ত্রী নাসিমা সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে ফুটপাতে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন সবাই। নাসিমা জানান, ২০১৮ সালে ছেলে শাহরিয়ারের শরীরে ব্ল্যাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সেই থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। আজও একই কারণে যাওয়া। বাবাকে সাহায্য করতে মাঝে মাঝে মোটরসাইকেল ঠেলেও দেয় ছেলে। দুপুর পর্যন্ত লাইন প্রায় না নড়লেও পরে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। অবশেষে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুর আড়াইটার দিকে তেল পান তারা। এরপর যাত্রাবাড়ী প
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ছেলে শাহরিয়ারের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর দয়াগঞ্জে যাওয়ার পথে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাইদুর রহমান ও তার পরিবার। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই কাছের পাম্পে তেল না পেয়ে তারা ঢাকার দিকে রওনা দেন এই আশায় যে পথে কোথাও তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু একের পর এক পাম্পে গিয়ে একই দৃশ্য দেখতে পান—তেল নেই, বিক্রি বন্ধ।
শেষ পর্যন্ত সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বিজয় সরণির আগে একটি পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে যান সাইদুর। প্রচণ্ড রোদে তিনি রাস্তায় মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, আর স্ত্রী নাসিমা সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে ফুটপাতে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন সবাই।
নাসিমা জানান, ২০১৮ সালে ছেলে শাহরিয়ারের শরীরে ব্ল্যাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সেই থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোই তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। আজও একই কারণে যাওয়া। বাবাকে সাহায্য করতে মাঝে মাঝে মোটরসাইকেল ঠেলেও দেয় ছেলে।
দুপুর পর্যন্ত লাইন প্রায় না নড়লেও পরে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। অবশেষে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুর আড়াইটার দিকে তেল পান তারা। এরপর যাত্রাবাড়ী পৌঁছে ক্লান্ত সন্তানদের নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন সাইদুর।
জানা যায়, ওই ফিলিং স্টেশনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। ফলে সকাল থেকেই সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে যায়, আর মোটরসাইকেলের লাইন পৌঁছে যায় অনেক দূর পর্যন্ত। তীব্র গরমে অনেক চালক রাস্তায় গাড়ি রেখে ফুটপাতে ছায়ায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।
শুধু এই পাম্প নয়, রাজধানীর আরও কয়েকটি পাম্পেও একই অবস্থা দেখা গেছে—কোথাও তেল নেই, কোথাও বিক্রি বন্ধ। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ টাঙানো ছিল।
এদিকে, অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ার চালক এনামুল হকও একই সমস্যায় পড়েন। তিনি আগের দিনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অল্প তেল নিতে পেরেছিলেন। পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ট্যাংক ভর্তি করতে পারেননি। আজ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে, ফলে আয় কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে কাজের সময় নষ্ট হওয়ায় সংসারের খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, হঠাৎ তেলের সংকট ও পাম্প বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সূত্র : প্রথম আলো
What's Your Reaction?