জন্মের পরই অদলবদল হন রানি মুখার্জি
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখার্জির জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। জন্মের পর হাসপাতালের ভুলে তিনি অন্য একটি পরিবারের কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে মায়ের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের কারণে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারেই ফিরে আসেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ২১ মার্চ পরিচালক রাম মুখার্জি ও গায়িকা কৃষ্ণা মুখার্জির ঘরে জন্ম নেন রানি মুখার্জি। কিন্তু জন্মের কিছুক্ষণ পরই হাসপাতালের নার্সের ভুলে তিনি একটি পাঞ্জাবি পরিবারের নবজাতকের সঙ্গে অদলবদল হয়ে যান। এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রানি জানান, জন্মের পর তিনি ভুলবশত একটি পাঞ্জাবি দম্পতির কক্ষে চলে গিয়েছিলেন। পরে তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি শিশুটিকে দেখে বুঝতে পারেন, সেটি তার সন্তান নয়। রানি বলেন, "আমার মা শিশুটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন, এটি আমার মেয়ে হতে পারে না। আমার সন্তানের চোখের মণির রং বাদামি। এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমার প্রকৃত সন্তানকে খুঁজে আনতে বলেন।" পরে হাসপাতালের অন্য একটি কক্ষে থাকা পাঞ্জাবি দম্পতির কাছে রানিকে খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের নবজাতকের সঙ্গে রানির অদলবদল হয়েছিল। পরে দুই পরিবারই নিজ নিজ সন্তানকে ফিরে পায়। রান
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখার্জির জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। জন্মের পর হাসপাতালের ভুলে তিনি অন্য একটি পরিবারের কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে মায়ের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের কারণে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারেই ফিরে আসেন তিনি।
১৯৭৮ সালের ২১ মার্চ পরিচালক রাম মুখার্জি ও গায়িকা কৃষ্ণা মুখার্জির ঘরে জন্ম নেন রানি মুখার্জি। কিন্তু জন্মের কিছুক্ষণ পরই হাসপাতালের নার্সের ভুলে তিনি একটি পাঞ্জাবি পরিবারের নবজাতকের সঙ্গে অদলবদল হয়ে যান।
এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রানি জানান, জন্মের পর তিনি ভুলবশত একটি পাঞ্জাবি দম্পতির কক্ষে চলে গিয়েছিলেন। পরে তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি শিশুটিকে দেখে বুঝতে পারেন, সেটি তার সন্তান নয়।
রানি বলেন, "আমার মা শিশুটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলেন, এটি আমার মেয়ে হতে পারে না। আমার সন্তানের চোখের মণির রং বাদামি। এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমার প্রকৃত সন্তানকে খুঁজে আনতে বলেন।"
পরে হাসপাতালের অন্য একটি কক্ষে থাকা পাঞ্জাবি দম্পতির কাছে রানিকে খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের নবজাতকের সঙ্গে রানির অদলবদল হয়েছিল। পরে দুই পরিবারই নিজ নিজ সন্তানকে ফিরে পায়।
রানি আরও জানান, ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে পরিবারের সবাই মজা করতেন। অনেকেই বলতেন, তিনি নাকি আসলে পাঞ্জাবি পরিবারের সন্তান, ভুলবশত মুখার্জি পরিবারে বড় হয়েছেন।
জানা যায়, সেই সময় ডিউটিতে থাকা এক নার্স নবজাতকদের পরিচয় ট্যাগ লাগানোর সময় ভুল করেছিলেন। আর সেই ভুল থেকেই এই অদ্ভুত ঘটনার জন্ম।
মজার বিষয় হলো, জন্মের সময় পাঞ্জাবি পরিবারের সঙ্গে অদলবদল হলেও পরবর্তীতে জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নেন একজন পাঞ্জাবিকেই। ২০১৪ সালে প্রযোজক-পরিচালক আদিত্য চোপড়াকে বিয়ে করেন রানি। ইতালিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ২০১৫ সালে তাদের কন্যাসন্তান আদিরার জন্ম হয়।
চলচ্চিত্রে পথচলা
চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয় ছিল রানির। ১৯৯৬ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘বিয়ের ফুল’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর বলিউডে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ সিনেমার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। তবে ১৯৯৮ সালে শাহরুখ খান ও কাজলের সঙ্গে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এ অভিনয় করেই ব্যাপক পরিচিতি পান।
এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সাথিয়া’, ‘চলতে চলতে’, ‘হাম তুম’, ‘বীর-জারা’, ‘ব্ল্যাক’, ‘বান্টি অর বাবলি’, ‘কভি আলবিদা না কহনা’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘মর্দানি’, ‘মর্দানি ২’ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’।
অর্জনের ঝুলিতে অসংখ্য সম্মাননা
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে রানি মুখার্জি বহু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি একাধিকবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন এবং ভারতীয় সিনেমায় শক্তিশালী নারী চরিত্রকে নতুন মাত্রা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক’, ‘হাম তুম’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘মর্দানি’ এবং ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-তে তার অভিনয় সমালোচক ও দর্শক—উভয় মহলেরই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে রানি মুখার্জি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় তারকাই নন; বরং বলিউডের অন্যতম সেরা ও বহুমাত্রিক অভিনেত্রীদের একজন। জন্মের সময় ঘটে যাওয়া সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি আজও তার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত স্মৃতিগুলোর একটি।
What's Your Reaction?