জবির পুরোহিতকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন, ভোরে ফেলে রেখে যায় বাসার গেটে

পুরান ঢাকার নারিন্দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহকারী পুরোহিত ও ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের শিক্ষার্থী সুভাষ দেউরীকে (২৫) অপহরণের পর কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণকারীরা তার পরিবার ও রুমমেটের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে নারিন্দায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। পরে রাতভর তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর ৫টার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নারিন্দার বাসার সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সুভাষ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্যামল দেউরীর ছেলে। তিনি নারিন্দা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহকারী পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগীর রুমমেট দুর্জয় সাহা জাগো নিউজকে বলেন, রাতে সুভাষ দাদা বাইরে ছিলেন। রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে আমার কাছে উনার নম্বর থেকে ফোনকল আসে এবং ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি বলি যে, আমার

জবির পুরোহিতকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন, ভোরে ফেলে রেখে যায় বাসার গেটে

পুরান ঢাকার নারিন্দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহকারী পুরোহিত ও ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের শিক্ষার্থী সুভাষ দেউরীকে (২৫) অপহরণের পর কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণকারীরা তার পরিবার ও রুমমেটের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাতে নারিন্দায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। পরে রাতভর তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর ৫টার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নারিন্দার বাসার সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সুভাষ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্যামল দেউরীর ছেলে। তিনি নারিন্দা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহকারী পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীর রুমমেট দুর্জয় সাহা জাগো নিউজকে বলেন, রাতে সুভাষ দাদা বাইরে ছিলেন। রাত ৯টা ৫৮ মিনিটে আমার কাছে উনার নম্বর থেকে ফোনকল আসে এবং ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি বলি যে, আমার কাছে এতো টাকা নেই। পরে আমি ৬ হাজার টাকা পাঠাই। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাদার বাসা (মাগুরা) থেকে আমাকে ফোনকল করে জানানো হয়, উনার বাবা-মা, বোন ও কাকা সবার কাছেই ফোন করে ২০-৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। তখনই আমরা বুঝতে পারি দাদা বিপদে পড়েছেন এবং তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় নম্বর ট্র্যাকিংয়ের চেষ্টা করি। রাতে আমরা প্রথমে সবুজবাগ থানা এবং পরে মুগদা থানায় খোঁজ নিই, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাইনি। সারারাত সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ভোর ৫টার দিকে যখন আমরা বাসায় ফিরি, তখন দেখি বাসার সামনে দাদাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সৈকত পাঠক জাগো নিউজকে বলেন, আমি কর্মব্যস্ত থাকায় আমার অবর্তমানে সুভাষ দা নিয়মিত পূজা অর্চনা করেন। সাধারণত সকাল বেলার পূজা সুভাষ দা এবং সন্ধ্যাবেলার পূজা আমি করি। তিনি মূলত আমার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা দুজনের কেউই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নই। তবে মন্দিরের অফিসিয়াল কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় আমাদের আনঅফিসিয়ালি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দির কমিটির আহ্বায়ক প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, সুভাষ দেউরী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা মন্দির কমিটির সদস্যদের নিয়ে তাকে দেখতে হাসপাতালে যাবো। প্রাথমিকভাবে জেনেছি তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, আহত সুভাষের মাথায়, হাতে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী পরিবার হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় হয়তো এখনো থানায় আসেননি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা জিডি করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিএইচকিউ/এমকেআর 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow