জ্যোতিষী নিয়োগে বিতর্ক, সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদল বিজয়ের
তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম-এর সরকার আস্থা ভোটে জয় পাওয়ার পরপরই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে এক জ্যোতিষীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর শেষ পর্যন্ত সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে রাজনৈতিক বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দল, সমালোচক এমনকি জোটসঙ্গীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দেওয়া দল ডি রবিকুমারের নেতৃত্বাধীন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি তীব্র আপত্তি তোলে। দলটি সরকারের প্রতি সমর্থন হিসেবে তাদের দুটি আসন দিয়েছে। সমালোচনা বাড়তে থাকলে দলীয় নেতা সিটি নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ভেট্রিভেল মূলত দলের গণমাধ্যম মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। তার পেশা কী, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, তিনি আমাদের মিডিয়া মুখপাত্র। যে কোনো পেশার মানুষই এই দায়িত্ব পেতে পারেন। খবরে বলা হয়েছে, ভেট্রিভেলই নাকি আগে থেকে বিজয়ের নির্বাচনী জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এমনকি
তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম-এর সরকার আস্থা ভোটে জয় পাওয়ার পরপরই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে এক জ্যোতিষীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর শেষ পর্যন্ত সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে রাজনৈতিক বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দল, সমালোচক এমনকি জোটসঙ্গীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়।
বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দেওয়া দল ডি রবিকুমারের নেতৃত্বাধীন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি তীব্র আপত্তি তোলে। দলটি সরকারের প্রতি সমর্থন হিসেবে তাদের দুটি আসন দিয়েছে।
সমালোচনা বাড়তে থাকলে দলীয় নেতা সিটি নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ভেট্রিভেল মূলত দলের গণমাধ্যম মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। তার পেশা কী, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, তিনি আমাদের মিডিয়া মুখপাত্র। যে কোনো পেশার মানুষই এই দায়িত্ব পেতে পারেন।
খবরে বলা হয়েছে, ভেট্রিভেলই নাকি আগে থেকে বিজয়ের নির্বাচনী জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এমনকি তার পরামর্শেই অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও পরিবর্তন করেছিলেন।
তবে বুধবার (১৩ মে) আস্থা ভোটের সময় বিরোধী নেতারা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। প্রমাথা বিজয়কান্ত স্পষ্ট ভাষায় এই নিয়োগের নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে একজন জ্যোতিষীকে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তরুণদের কাছে আপনারা কী বার্তা দিতে চাইছেন? ব্যক্তিগত জ্যোতিষী হলে ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখুন।
জোটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শরিক কংগ্রেসও অসন্তোষ প্রকাশ করে। দলের সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, একজন জ্যোতিষীর জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ কেন প্রয়োজন?
বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছির সাধারণ সম্পাদক ডি রাভিকুমার বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্ব। তিনি দ্রুত ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। বাম দলগুলোর পক্ষ থেকেও আপত্তি আসে।
তবে একমাত্র সমর্থন দেখা যায় বিজেপির দিক থেকে। যদিও বিজয় আগেই বিজেপিকে নিজের আদর্শগত শত্রু বলে মন্তব্য করেছিলেন।
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষীদের প্রভাব নতুন কিছু নয়। ভেট্রিভেলের পরিচিত গ্রাহকদের তালিকায় ছিলেন তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাও।
খবরে বলা হয়, জয়ললিতার শাসনামলে বড় অনেক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া হতো। তবে সম্পদের অসঙ্গতি মামলায় জয়ললিতার কারাদণ্ড হবে না; এমন ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ হওয়ার পর তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সূত্র : এনডিটিভি
What's Your Reaction?