‘টাকার জন্যই ওরা আমার মেয়েটাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল’
‘টাকার জন্যই ওরা আমার মেয়েটাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল’- যৌতুকের নির্মম বলি হওয়া নিজের সন্তানকে হারিয়ে অশ্রুসজল চোখে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন মা দুলালী রানী। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে। তবে অভিযুক্ত স্বামী চঞ্চল হালদার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে ঘটনার পর থেকেই সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে রাজলক্ষ্মী পূরবীর সঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিঙারচড়া এলাকার রামচন্দ্র হালদারের ছেলে চঞ্চল হালদারের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য পূরবীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। নিহতের স্বজনরা জানান, চঞ্চল হালদার কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত না থাকায় প্রায়ই শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং তা আর ফেরত দিতেন না
‘টাকার জন্যই ওরা আমার মেয়েটাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল’- যৌতুকের নির্মম বলি হওয়া নিজের সন্তানকে হারিয়ে অশ্রুসজল চোখে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন মা দুলালী রানী। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে। তবে অভিযুক্ত স্বামী চঞ্চল হালদার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে ঘটনার পর থেকেই সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে রাজলক্ষ্মী পূরবীর সঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিঙারচড়া এলাকার রামচন্দ্র হালদারের ছেলে চঞ্চল হালদারের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য পূরবীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
নিহতের স্বজনরা জানান, চঞ্চল হালদার কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত না থাকায় প্রায়ই শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং তা আর ফেরত দিতেন না। সর্বশেষ মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে তিনি চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই টাকা এনে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (১৯ মে) পূরবীকে তার বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি খালি হাতেই স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরদিন বুধবার (২০ মে) সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে পূরবীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী চঞ্চল হালদার পলাতক রয়েছেন।
নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল অশ্রুসজল চোখে অভিযোগ করে বলেন, আমার একটাই মেয়ে। সে আমাকে প্রায়ই ফোন দিয়ে বলতো, টাকা না দিলে চঞ্চল তাকে মারধর করে। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাবো? টাকা দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল! আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
একই সুরে নিহতের মা দুলালী রানী বলেন, এর আগেও জামাইকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু তার টাকার লোভ শেষ হয়নি। বারবার টাকা চেয়েছে, আমরা গরিব মানুষ আর দিতে পারিনি। টাকার জন্যই ওরা আমার মেয়েটাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত চঞ্চল হালদারের মা লক্ষ্মী রানী ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় ক্ষোভে ও অভিমানে পূরবী নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, সকালে রাজলক্ষ্মী পূরবীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
What's Your Reaction?