টাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম হান্নানের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।রোববার (৩ মে) সকালে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ছোট শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। ওই দিন বিকেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এক ছাত্রীকে কৌশলে নির্জন শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে তিনি সরে যান বলে জানা যায়।পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বিষয়টি জানায়। রোববার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে ছাত্রীটির চাচি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়ে তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা মিছিল বের করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জান

টাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম হান্নানের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (৩ মে) সকালে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ছোট শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। ওই দিন বিকেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এক ছাত্রীকে কৌশলে নির্জন শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে তিনি সরে যান বলে জানা যায়।

পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বিষয়টি জানায়। রোববার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে ছাত্রীটির চাচি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়ে তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা মিছিল বের করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন ও মমতাজসহ স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয়রা নিয়মিত খড় শুকান। প্রধান শিক্ষক এতে বাধা দিলে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই রেশ ধরে ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সাজানো হতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে অনৈতিক আচরণের মতো কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া অনুষ্ঠানের দিন ওই ছাত্রী স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল এবং নাচ-গানেও অংশ নেয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সে অবশ্যই শিক্ষকদের জানাতো বলে তারা মন্তব্য করেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে দু’জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি থানায় মামলা দায়ের হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ছাত্রী ও তার মাকে নিরাপত্তার জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow