টেকনাফের সৌর পার্ক থেকে মিলছে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সীমান্তঘেঁষা জনপদ টেকনাফে সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের গ্রাহকদের কাছে। ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতিতেও রাখছে ভূমিকা। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকায় গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ১১৭ একরে ৮৭ হাজার সৌর প্যানেল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘টেকনাফ সোলার পার্ক’ নামে পরিচিত এ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পটি বর্তমানে পরিচালনা করছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (টিএসইএল)। সীমান্তবর্তী আলীখালী এলাকার প্রায় ১১৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে সুনির্দিষ্ট ও সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ৮৭ হাজার ৫০০টি সৌর প্যানেল। এসব প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের জন

টেকনাফের সৌর পার্ক থেকে মিলছে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সীমান্তঘেঁষা জনপদ টেকনাফে সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের গ্রাহকদের কাছে। ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতিতেও রাখছে ভূমিকা।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকায় গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

১১৭ একরে ৮৭ হাজার সৌর প্যানেল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘টেকনাফ সোলার পার্ক’ নামে পরিচিত এ প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পটি বর্তমানে পরিচালনা করছে টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (টিএসইএল)।

টেকনাফের সৌর পার্ক থেকে মিলছে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সীমান্তবর্তী আলীখালী এলাকার প্রায় ১১৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে সুনির্দিষ্ট ও সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে ৮৭ হাজার ৫০০টি সৌর প্যানেল। এসব প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঝখানে পাঁচটি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যানেলগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির সুবিধার্থে সোলার পার্কের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক।

কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২০ মেগাওয়াট। এসব সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে মূল স্টেশনে সংগ্রহ করা হয়। পরে হ্নীলা লেদা পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের মাধ্যমে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়, সেখান থেকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যায়। এই প্রকল্প চালুর ফলে টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

আরও পড়ুন
ফেসবুক গ্রুপেই মিলছে সৌরবিদ্যুতের সমাধান
দেড় লাখ টাকার সোলারেই চলবে এসি-ফ্রিজ-টিভি
স্রেডার বাজেট কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের প্রতিশ্রুতি!

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় টেকনাফ উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। তবে এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর থেকে সীমান্ত ও পর্যটননির্ভর এ জনপদের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। তবে গত দুই মাস ধরে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি বেড়েছে বলে জানান তারা।

হ্নীলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নাফ নদীর তীরে ২০ মেগাবাইট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আগে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল সাধারণ ঘটনা, এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্প নতুন প্রজন্মের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরছে।’

টেকনাফের সৌর পার্ক থেকে মিলছে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

লাতুরিখোলার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইদ্রিস জানান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হলেও আমরা কতটুকু সুবিধা পাচ্ছি, তা স্পষ্ট নয়। এই সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎতের সুফল সাধারণ মানুষ যথাযথভাবে পাচ্ছে না। যদিও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পর প্রথম দিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, বর্তমানে আবার লোডশেডিং বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, এ উপজেলার মানুষকে আশানুরূপ বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল সম্রাট জানান, আলীখালী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর পর টেকনাফবাসী উন্নত বিদ্যুৎ সেবার আশা করলেও বাস্তবে এখনো ভোগান্তি রয়ে গেছে। দিনের বেলায় ভোল্টেজ স্বাভাবিক থাকলেও রাতে কমে যাওয়ায় পাখা, ফ্রিজ, পানির মোটর ও টেলিভিশনসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো যায় না।

সূর্যের আলোই ভরসা, রাতে উৎপাদন বন্ধ

টেকনাফ সোলার পার্কের দায়িত্বরত সিকিউরিটি সুপারভাইজার আইনুল জানান, কেন্দ্রটি বর্তমানে আগের মতোই পূর্ণ ২০ মেগাবাইট সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এখানে নতুন করে কোনো মেগাবাইট যুক্ত করা হয়নি। পুরো কেন্দ্রটি নিয়মিত তদারকি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতাধীন রয়েছে।

টেকনাফের সৌর পার্ক থেকে মিলছে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলে কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মেগাবাইট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। তবে আকাশ মেঘলা থাকলে কিংবা ঝড়-বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। যেহেতু এটি সম্পূর্ণভাবে সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই স্বাভাবিকভাবেই রাতের বেলায় কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। তবে দিনে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ টেকনাফসহ আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাকআপ দিচ্ছে।’

জেএএম/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow