টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়া নিয়ে কোহলির বিস্ফোরক মন্তব্য

ভারতের সাদা পোশাকের নেতৃত্বে বিরাট কোহলি ছিলেন এক দারুণ উদাহরণ। দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। তবে ২০২২ সালে সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকরা। ঠিক কি কারণে এমন সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন তখন বেশ বড় করে চাউর হলেও পাওয়া যায়নি। অবশেষে সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন খোদ বিরাট কোহলি। তিনি জানালেন, অধিনায়কত্ব ধীরে ধীরে তাকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল। শুরুতে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। কোহলির নেতৃত্বে ৬৮ টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ভারত। এর ৪০ ম্যাচেই জয়ের দেখা পায় ব্লু আর্মিরা। ভারতের ইতিহাসের স্মরণীয় টেস্ট অধিনায়কদের একজন তিনি। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নিলে এই নেতৃত্বাভার পান কোহলি। এর আগে, ছেড়ে দেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বও। পরবর্তীতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কোহলিকে। সম্প্রতি আরসিবি ইনোভেশন ল্যাবের ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটের তৃতীয় আসরে কোহলি কথা বলেছেন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার কারণ। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম, যেখানে ব্যাটিং ইউনিট ও নেতৃত্ব দুই ক্ষেত্রেই আমিই হয়ে উঠেছিলাম মূল

টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়া নিয়ে কোহলির বিস্ফোরক মন্তব্য

ভারতের সাদা পোশাকের নেতৃত্বে বিরাট কোহলি ছিলেন এক দারুণ উদাহরণ। দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। তবে ২০২২ সালে সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে পড়েন ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকরা। ঠিক কি কারণে এমন সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন তখন বেশ বড় করে চাউর হলেও পাওয়া যায়নি।

অবশেষে সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন খোদ বিরাট কোহলি। তিনি জানালেন, অধিনায়কত্ব ধীরে ধীরে তাকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল। শুরুতে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি।

কোহলির নেতৃত্বে ৬৮ টেস্ট ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ভারত। এর ৪০ ম্যাচেই জয়ের দেখা পায় ব্লু আর্মিরা। ভারতের ইতিহাসের স্মরণীয় টেস্ট অধিনায়কদের একজন তিনি। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নিলে এই নেতৃত্বাভার পান কোহলি। এর আগে, ছেড়ে দেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বও। পরবর্তীতে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কোহলিকে।

সম্প্রতি আরসিবি ইনোভেশন ল্যাবের ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটের তৃতীয় আসরে কোহলি কথা বলেছেন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার কারণ। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম, যেখানে ব্যাটিং ইউনিট ও নেতৃত্ব দুই ক্ষেত্রেই আমিই হয়ে উঠেছিলাম মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে রাখার ব্যাপারে আমি এতটাই তাড়িত ও অনুপ্রাণিত ছিলাম যে বুঝতেই পারিনি, এই দুই দায়িত্ব আমার দৈনন্দিন জীবনে কতটা চাপ তৈরি করছে। আর এ কারণেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় আমি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলাম। এটা আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করেছিল। সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন। প্রত্যাশার চাপ সামলানোও ছিল খুব কঠিন।’

অধিনায়কত্ব মানেই অনেক চাপ। সেই চাপের মুখোমুখি হয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাজঘরের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী ও টিম ম্যানেজমেন্টের অবদানের কথা স্বীকার করলেন কোহলি, ‘আমার সেরা সময়টায় মূল লক্ষ্য ছিল দলকে নিরাপদ অনুভব করানো। যেন ড্রেসিংরুমে কোনো অনিরাপত্তা না ঢুকে পড়ে। এ জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট, রবি শাস্ত্রী এবং পুরো সাপোর্ট স্টাফকে অনেক কৃতিত্ব দিতে হবে। কিন্তু যখন পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময় একই রকম থাকে না, তখন এই দুই দায়িত্বের চাপ আরও বেশি অনুভূত হতে শুরু করে। তাই সময়টা সত্যিই কঠিন ছিল।’

অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সময়টা মানসিকভাবে বেশ কঠিন হলেও ক্রিকেটের আনন্দ ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের সাবেক কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোরের। ভারতের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরই আমি নিজেকে আরও খুলে দিতে শুরু করি। রাহুল ভাই ও বিক্রম রাঠৌরের মতো মানুষের সঙ্গে অনেক বেশি কথা বলেছি। ২০২৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে আমার দারুণ সময় কেটেছে। এখন তাঁদের যখনই দেখি, হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

কোহলি আরও বলেন, ‘তারা (দ্রাবিড় এবং রাঠোর) আমাকে এমনভাবে আগলে রেখেছিলেন, যাতে আমার মনে হয়েছে আমি তাদের জন্য খেলতে চাই। ভালো করতে চাই। মাঠে নেমে লড়াই করতে চাই। তাঁরা ছিলেন ভীষণ যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল। তাঁরা আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছেন, আমি এখন পর্যন্ত কী অর্জন করেছি।’

আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow