ঠান্ডা পানিতে বাসন ধোয়ার সময় হাত গরম রাখবেন যেভাবে

  শীতকাল এলেই রান্নাঘরের কাজ যেন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বাসন মাজা, কাপড় কাচা কিংবা ঘর মোছা-সব কাজেই ঠান্ডা পানির সঙ্গে দীর্ঘ সময় হাত ডুবিয়ে রাখতে হয়। কিছুক্ষণ পর হাত বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, আঙুলে শক্তি থাকে না। যাদের বাতের ব্যথা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডায় হাতের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। তাই ঠান্ডা পানিতে কাজ করলেও হাত সুস্থ রাখার কৌশল জানা জরুরি। বাসন ধোয়ার সময় হাত জমে যায় কেন? থালা ধোয়ার সময় হাত জমে যায় মূলত ঠান্ডা বা হালকা গরম পানিতে বেশিক্ষণ থাকার কারণে। বাতাসের তুলনায় পানি ত্বকের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। শীতকালে, শরীরের তাপ সংরক্ষণের জন্য আঙুলে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। ফলে, হাত ঠান্ডার প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ঘন ঘন পানিরর সংস্পর্শে আসা, ত্বক ভেজা থাকা এবং ঘরের তাপমাত্রা কম থাকা, এই প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বাসন ধোয়ার সময় সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়, যা ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে হাত গরম রাখবেন- ১.কাজের ফাঁকে হাত ঘষে নিনএকটানা ঠান্ডা পানিতে কাজ করলে হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে। এই সময় কাজের ফাঁকে দুইহাতের

ঠান্ডা পানিতে বাসন ধোয়ার সময় হাত গরম রাখবেন যেভাবে

 

শীতকাল এলেই রান্নাঘরের কাজ যেন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বাসন মাজা, কাপড় কাচা কিংবা ঘর মোছা-সব কাজেই ঠান্ডা পানির সঙ্গে দীর্ঘ সময় হাত ডুবিয়ে রাখতে হয়। কিছুক্ষণ পর হাত বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, আঙুলে শক্তি থাকে না। যাদের বাতের ব্যথা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডায় হাতের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। তাই ঠান্ডা পানিতে কাজ করলেও হাত সুস্থ রাখার কৌশল জানা জরুরি।

বাসন ধোয়ার সময় হাত জমে যায় কেন?
থালা ধোয়ার সময় হাত জমে যায় মূলত ঠান্ডা বা হালকা গরম পানিতে বেশিক্ষণ থাকার কারণে। বাতাসের তুলনায় পানি ত্বকের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। শীতকালে, শরীরের তাপ সংরক্ষণের জন্য আঙুলে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। ফলে, হাত ঠান্ডার প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ঘন ঘন পানিরর সংস্পর্শে আসা, ত্বক ভেজা থাকা এবং ঘরের তাপমাত্রা কম থাকা, এই প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বাসন ধোয়ার সময় সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়, যা ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে হাত গরম রাখবেন-

১.কাজের ফাঁকে হাত ঘষে নিন
একটানা ঠান্ডা পানিতে কাজ করলে হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে। এই সময় কাজের ফাঁকে দুইহাতের তালু একসঙ্গে ভালো করে ঘষে নিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে হাত দ্রুত গরম হয় এবং আবার কাজ করার মতো শক্তি ফিরে আসে। কনকনে ঠান্ডায় এটি খুবই কার্যকর একটি অভ্যাস।

২. কাজ শুরুর আগে হাত গরম করুন
বাসন মাজা বা কাপড় কাচা শুরু করার আগে কয়েক মিনিট গরম পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখুন। এতে হাতের রক্ত চলাচল সক্রিয় হবে এবং পরে ঠান্ডা পানিতে কাজ করলেও হাত অতিরিক্ত ঠান্ডা হবে না। ফলে যন্ত্রণা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমে।

৩. পানির কাজে হাত দেওয়ার আগে তেল মাখুন
ঠান্ডা পানি ও সাবান-ডিটারজেন্টের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হাত বাঁচাতে তেল বড় ভূমিকা রাখে। কাজ শুরুর আগে সরিষার তেল বা নারিকেল তেল হাতের ত্বকে মেখে নিলে একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়। এতে ত্বক শুষ্ক হয় না এবং ফাটা বা রুক্ষ হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

৪. গ্লাভস ব্যবহার করুন
রান্নাঘরের কাজের সময় গ্লাভস পরা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। বাসন মাজা, ঘর মোছা বা কাপড় কাচার সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে ঠান্ডা পানি সরাসরি হাতে লাগে না। পাশাপাশি ক্ষারজাত উপাদানের সংস্পর্শ থেকেও ত্বক সুরক্ষিত থাকে।

৫.ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
সব কাজ শেষ হলে দুইহাতে ভালো মানের হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিন। এতে ত্বকের হারানো আর্দ্রতা দ্রুত ফিরে আসে। ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে কিছুক্ষণ হাত ঘষলে তালু উষ্ণ হয় এবং আরাম অনুভূত হবে।

শীতকালে রান্নাঘরের কাজ এড়ানো সম্ভব না হলেও এই সহজ অভ্যাসগুলো মেনে চললে ঠান্ডা পানিতেও হাত থাকবে সুস্থ, নরম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:
বাড়তি খরচ এড়িয়ে সিলিন্ডার গ্যাস বাঁচানোর কৌশল 
টমেটো ফ্রিজে রাখলেই পচে যায়, সংরক্ষণ করবেন যেভাবে 

এসএকেওয়াই/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow